Archive for the ‘স্বাস্হ্য’ Category

ভেবেচিন্তে খেতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক

Saturday, May 18th, 2013

303,00নিউজ বিএনএন ডেস্ক:কত রোগের ওষুধ বেরোয়, কিন্তু সর্দি-কাশি সামলাতে এখনও হিমশিম খান ডাক্তাররা৷ তার উপর মানুষ নিজেরাই নিজেদের উপর ডাক্তারি করে কখনো অ্যান্টিবায়োটিক খায়, কখনও তা বন্ধ করে দেয়৷ এমন খামখেয়ালিপনা আদৌ রোগ সারাতে সাহায্য করে না৷

সবারই নিশ্চয়ই এই অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ প্রথমে নাকে একটু সুড়সুড় করে৷ তারপর সর্দি ধরে৷ সবশেষে দেখা দেয় জ্বরজ্বর ভাব ৷ তখন অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিকের দিকে হাত বাড়ায়৷ কিন্তু নাক, কান, গলার বিশেষজ্ঞ ড. হান্স মিশায়েল শ্ট্রাল এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রথমে বুঝতে হবে, সংক্রমণটা ভাইরাস না ব্যাকটেরিয়ার৷ তিনি বললেন, ‘‘ভাইরাসের সংক্রমণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত ঘটে৷ ঝট করে সংক্রমণ ঘটলে বুঝতে হবে এটা ভাইরাস৷ কাঁপিয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা এলে শরীরের তাপও বেড়ে যায়৷ অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ধীরে ধীরে আসে৷

ঠাণ্ডা লাগাটা সাধারণত ভাইরাস থেকেই হয়৷ যার সর্দি হয়েছে তার কাছে গেলে বা তার সাথে হাত মেলালে সংক্রমণ ঘটে৷ অ্যান্টিবায়োটিক এক্ষেত্রে কাজে লাগেনা৷ অ্যান্টিবায়োটিক মানে জীবাণুর বিরুদ্ধেই লড়াই, অর্থাৎ যার প্রাণ আছে৷ ‘অ্যান্টি’ মানে বিরুদ্ধে, ‘বায়ো’ অর্থাৎ জীবন৷ এটা শুধু ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷
নিজের উপর ডাক্তারির অভ্যাস কার না নেই!

ড. শ্ট্রাল আরও বললেন, ‘‘অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিস্তারে বাধা দেয়, অর্থাৎ বাড়তেই দেয় না৷ অথবা সেগুলিকে একেবারে মেরে ফেলে৷ দুটি দুই ধরনের প্রক্রিয়া৷ তাই বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক এক সাথে খাওয়া উচিত নয়, এর ফল মারাত্মক হতে পারে৷”

নির্দিষ্ট সময়ের আগে অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করে দেওয়াও বিপজ্জনক৷ অনেকে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে প্রথম প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকে৷ কিন্তু একটু ভালো বোধ করলেই আর খায় না৷ এটা বিরাট ভুল৷ ড. শ্ট্রাল মনে করেন, ‘‘অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকমতো প্রয়োগ করলে তার ফলও তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়৷ তখন রোগী মনে করে, ‘‘আমার তো ভালোই লাগছে, আর ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই৷” কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, অ্যান্টিবায়োটিক কমপক্ষে পাঁচ দিন খেতে হবে৷ অথবা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে, কতদিন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া প্রয়োজন৷”

ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে নিয়মিত নাকের ফ্লাশিং আর টমেটো জুস পান করতে বলেন চিকিত্সকরা৷ ড. শ্ট্রাল বললেন, ‘‘দেখা গেছে, একেবারে সস্তার টমেটো জুসেও লাইকোপিন নামের লাল রং-এর এক ধরনের উপাদান থাকে৷ এটা সর্দি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়৷ তাই বিশেষ করে শীতকালে প্রতিদিন এক গ্লাস করে টমেটো জুস খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়৷”

তবে শরীরের প্রতিরোধ শক্তি জোরালো করতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত হাঁটাচলা ও টাটকা বাতাস৷ তবুও যদি ঠাণ্ডা লাগে, তাহলে গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যাবে৷ এতে সাইনাস ও নাকের ভেতরের পাতলা চামড়ার তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি বেড়ে যাবে৷ ফলে সংক্রমণ রুখতে ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ ক্ষমতাও জোরালো হবে৷ এই ভাবে বছরের ঠাণ্ডা ঋতুটা পার করা সহজ হবে৷সূত্র:ডিডাব্লিউ

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে পপকর্নে

Wednesday, May 15th, 2013

408_345256নিউজ বিএনএন ডটকম:যারা পপকর্ন অর্থাৎ ভুট্টার খই খেতে ভালোবাসেন তাদের একটু সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। প্রিয় এ খাবারটির সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক রয়েছে। যারা ভুট্টার খই খাবেন তারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। গবেষকরা এতে পারফ্লুরোঅক্টানোইক অ্যাসিডের (পিএফওএ) সন্ধান পেয়েছেন, যা হৃদরোগের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। মর্গানটাউনের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১২০০ মার্কিন নাগরিকের নানা তথ্য এবং পিএফওএ মাত্রা বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এতে দেখা গেছে, যাদের রক্তে পিএফওএর
মাত্রা যত বেশি তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তত বেশি। এ গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ডা. অনুপ শঙ্কর। তিনি এও বলেছেন, ভুট্টার খই খেলে যে হৃদরোগ হবেই তেমন কথা নেই। তবে হৃদরোগ এবং এ খাবারের মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে।সূত্র: ফক্স নিউজ অনলাইন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ

Tuesday, May 14th, 2013

45076নিউজ বিএনএন ডেস্ক:ফ্রান্সে নোবেল করোনা ভাইরাস আক্রান্ত আরও একজনকে শনাক্ত করার পর এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে একই কক্ষে ছিলেন। ফ্রান্সে দ্বিতীয় ব্যক্তির আক্রান্তের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, সার্স ভাইরাসের মতো করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।
এদিকে সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও দু’জন মারা গেছে বলে সে দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে নিউমোনিয়া
হয়, কিডনিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। গত বছর থেকে এই ভাইরাসে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন বলে জানায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। সৌদি আরব ও জর্ডানে এই ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায় প্রথম দিকে। ধারণা করা হয়, এসব দেশ থেকে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এ পর্যন্ত ২৪ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১৫ জন। এর আগে ২০০৩ সালে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, সার্স এবং নোবেল করোনা ভাইরাস অনেকটা একই রকম। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে এটি সংক্রমিত হতে পারে। তবে ব্যাপকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। করোনা ভাইরাসে পশুও আক্রান্ত হতে পারে। পশু থেকে এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে কি-না তা জানা যায়নি।সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স অনলাইন।

স্থূলতায় মনোবৈকল্যের ঝুঁকি

Monday, May 13th, 2013

_1406_344878নিউজ বিএনএন ডটকম:স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন কেবল শরীরের জন্যই ক্ষতিকর নয়, মনের জন্যও ক্ষতির কারণ। গবেষকরা বলছেন, স্ফীত কটিদেশের কারণে ভবিষ্যতে অনেক মানুষ মনোবৈকল্যের শিকার হতে পারে। স্থূলতা নিয়ে ইউরোপিয়ান কংগ্রেসে উত্থাপিত গবেষণা নিবন্ধে এ হুঁশিয়ারি জানানো হয়। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়, নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। সুইডেনের সাড়ে আট হাজার যমজের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা স্থূলতায় আক্রান্ত তাদের মতিভ্রস্ট ও উন্মাদ হওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিক ওজনের
লোকদের তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আলঝেইমারস সোসাইটির গবেষক জেসিকা স্মিথ বলেন, বেশি ওজন হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা সহজেই মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অনেক বেশি ও ক্ষতিকর হতে পারে। স্থূলতা বা বেশি ওজন হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ নানান রোগের কারণ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।সূত্র: বিবিসি অনলাইন।

পাকা আম খান, তবে বেশি নয়

Sunday, May 12th, 2013

405_344706নিউজ বিএনএন ডটকম:প্রিয় ফল খেতে যদি কেউ মানা করেন কিংবা স্বাস্থ্যজনিত কারণে চিকিৎসকই নিষেধ করেন, তাহলে কেমন লাগবে! আর ফলটি যদি হয় আম! গবেষকরা বলছেন, পাকা আম খাওয়া ভালো, তবে খুব বেশি খাওয়া ঠিক নয়। ডায়াবেটিস রোগী বা স্থূলকার লোকদের জন্য পাকা আম থাকবে ‘রেড লিস্টে’। পাকা আমে রয়েছে নানা ভিটামিন। যেমন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন। আবার রয়েছে উচ্চমাত্রার চিনি, কার্বোহাইড্রেড ও গ্গ্নাইসেমিক। তাছাড়া পাকা আমে ফিনোলিকস জাতীয়
উপাদান থাকার কারণে তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। ভিটামিন থাকার কারণে আম যেমন উপকারী, তেমনি চিনি থাকার কারণে এটি উচ্চ ক্যালোরিসমৃদ্ধ। এটিই হচ্ছে সতর্কতার কারণ। পাকা আম অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যাবে। বেড়ে যাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ।
আমের আরও উপাদান হচ্ছে, ফিটোকেমিকেল কম্পাউন্ড তথা গ্যালিক অ্যাসিড, ম্যাঙ্গফেরিন, কোয়ার্নেটিন এবং টেনিন বা কষজাতীয় উপাদান। এ উপাদানগুলো ক্ষতিকর।
এদিকে গ্রীষ্মের খরতাপে পানিশূন্যতা কিংবা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক। এ সমস্যা এড়াতে প্রচুর পানি পানের পাশাপাশি তাজা ফল খাওয়ার কথা বলছেন গবেষকরা। এক্ষেত্রে ভালো কাজ দেবে তরমুজ।সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, জি নিউজ অনলাইন।

অটিজম – অসুখ না চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য?

Saturday, May 11th, 2013

1234নিউজ বিএনএন ডেস্ক:অটিজম শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ আউটোস থেকে৷ অর্থাৎ আত্ম বা নিজ৷ বিশেষ ধরনের স্নায়ুবিক (ডিসঅর্ডার অব নিউরাল ডেভেলপমেন্ট) সমস্যাই হলো অটিজম৷

অটিস্টরা নিজস্ব একটা মনোজগতে বসবাস করে৷ চারপাশ থেকে আলাদা এক জগৎ৷ তাই তাদের আচরণও স্বাভাবিক হয় না৷

সুইস মনোবিজ্ঞানী অয়গেন ব্লয়লার প্রথম অটিজমকে এক ধরনের মনোরোগ হিসেবে চিহ্নিত করেন ১৯১১ সালে৷ কয়েক দশক পরে রোগটি নিয়ে গবেষণা বিস্তৃত হয় পশ্চিমের বহু দেশে৷

জিনগত ত্রুটির কারণে অটিজম হতে পারে৷ তবে এর সুস্পষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি৷ ভাই বোনের অটিজম থাকলে কোনো শিশুর রোগটি হওয়ার আশঙ্কা ৫০ গুণ বেড়ে যায়৷ তীব্র আলো, শব্দ, গন্ধ এসব সহ্য করতে পারে না অটিস্টরা৷ মানুষের সঙ্গে, এমনকি আপন জনের সঙ্গেও ভাববিনিময় করতে পারে না ৷ তাদের নিজস্ব কিছু নিয়ম কানুন থাকে৷ তবে তারা কিন্তু নির্বোধ নয়৷ কেউ হিসাব নিকাশে পারদর্শী কেউ বা ভাষায়৷
জিনগত ত্রুটির কারণে অটিজম হতে পারে

অটিজমের রকম

অটিজমের কয়েকটি ধরন রয়েছে৷ এর মধ্যে ক্লাসিক অটিস্টিক ডিসঅর্ডার বা ক্যানার সিনড্রোমটাই বেশি লক্ষ্য করা যায়৷ যাকে ‘আর্লি ইনফ্যানটাইল অটিজম’-ও বলা হয়৷ সাধারণত তিন বছর বয়স হওয়ার আগেই এর লক্ষণ দেখা যায়৷ এতে বাচ্চার মধ্যে এক সাথে অনেক দিয়ে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়৷ যেমন কথা বলার সমস্যা, যোগাযোগ ও বোঝার অসুবিধা ইত্যাদি৷

অটিজমের আর একটি ধরন অ্যাসপারজার্স সিনড্রোম৷ এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কথা বলার ক্ষমতা থাকলেও কারো সঙ্গে মিশতে পছন্দ করে না আক্রান্তরা৷ বিশেষ কোনো বিষয়ে পারদর্শী হয়, অন্য দিকে আরেকটি বিষয় হয়তো বুঝতেই পারে না৷ যেমন অঙ্কে দক্ষ হলেও ভাষায় একেবারে কাঁচা৷

জন এক অটিস্ট বালক

সূর্য উঠলে বাসায় থাকতেই পছন্দ করে জন৷ প্রখর আলো তার একেবারেই পছন্দ নয়৷ জোরে শব্দ হলেও বিরক্ত হয় সে৷ একই স্কুল বাসে আরেকটি বাচ্চা তার সাথে উঠলে ভীষণ অপছন্দ করে সে৷ জন এক অটিস্ট বালক৷ বয়স ১২৷ তাঁর মা বলেন, ‘‘সে লিখতে পারে না, কথা বলতে পারে না, বুঝতেও পারে না৷ বলা যায় দুই এক বছরের শিশুর মত অনেকটা৷”

তিন বছর বয়সেই ডাক্তাররা তার রোগটি শনাক্ত করেন৷ জন ক্লাসিক অটিস্টিক ডিসঅর্ডার বা ‘আর্লি ইনফ্যানটাইল অটিজম’-এ আক্রান্ত৷ আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না৷ একই কাজ বার বার করে৷

রাইনার ড্যোলে ও আরেক অটিস্ট

রাইনার ড্যোলেও আরেক অটিস্ট৷ প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরেই চিকিত্সকরা তাঁর মধ্যে অ্যাসপারজার্স সিনড্রোম শনাক্ত করেন৷ রাইনার বলেন, ‘‘আমার সার্টিফিকেটে লেখা থাকতো, ‘ক্লাসের অন্যান্যদের সঙ্গে সে সম্পৃক্ত হতে পারে না’৷ আমাকে শান্তিতে থাকতে দিলেই খুশি হতাম৷ কোনো কোনো বিষয়ে আমি খুব পারদর্শী ছিলাম৷ ভূগোল ও ইতিহাস ছিল আমার কাছে পানির মতো৷ বিশ্বের নানা দেশ ও রাজধানীর নাম আমি গড়গড় করে বলতে পারতাম৷”
অটিস্টরা নিজস্ব একটা মনোজগতে বসবাস করে

অটিজমে আক্রান্তদের মধ্যে কম বেশি একটা মিল দেখা যায়৷ আর তা হলো, তারা সবাই একই ধরনের আচরণ বার বার করে এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না৷ হঠাৎ রেগে যায়৷

বিশ্বব্যাপী অটিজম দিবস

প্রতিবছর ২রা এপ্রিল বিশ্বব্যাপী অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয়৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি হাজারে এক থেকে আটজন শিশু অটিজমে আক্রান্ত৷ মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় চার গুণ বেশি৷

বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে অটিজম নিয়ে তেমন কোনো সমীক্ষা হয়নি৷ তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, শুধু মাত্র ঢাকা বিভাগেই অটিস্ট শিশুর হার শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ (০.৮৪%)৷

থেরাপি

অটিজম নিয়ে নানা বিভ্রান্তি রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও৷ অনেকের কাছে এটা স্নায়ুগত সমস্যা, কেউ কেউ বলেন এটি মানসিক বিকাশের সমস্যা৷ কারো মতে, এটা শিশুদের সাধারণ শিশুসুলভ সমস্যা৷ তবে সে যাই হোক রোগটিকে আয়ত্তে আনতে হলে কিছু কিছু বিষয়ের ওপর লক্ষ্য রাখতে হবে৷ যেমন অটিস্ট শিশুর স্বাভাবিক আচরণকে উৎসাহিত করতে হবে৷ সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে৷ ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে৷ স্পষ্ট করে কথা বলতে হবে তার সঙ্গে৷ তাকে মনের ভাব প্রকাশ করতে দিতে সাহায্য করতে হবে৷ সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে৷ সর্বোপরি সমন্বিত চিকিত্সা ও থেরাপি দিতে হবে অটিস্ট শিশুকে৷ সূত্র:ডিডাব্লিউ

বাংলাদেশে মাসে ২,৩৪০ নবজাতক প্রথম দিনেই মারা যায়

Thursday, May 9th, 2013

chlildনিউজ বিএনএন ডেস্ক:জন্মের প্রথম দিনই সন্তানের মৃত্যু৷ বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানের গড়ে এক হাজারেরও বেশি মাকে প্রতিদিন এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি দেখতে হয়৷ ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাইক নভেল দিয়েছেন এই তথ্য৷

বিশ্বে মায়েদের অবস্থা নিয়ে প্রতি বছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেভ দ্য চিলড্রেন৷ এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে প্রতিবছর যত নবজাতক জন্মের প্রথম দিনই মারা যায় তার প্রায় ৪০ শতাংশেরই জন্ম হয় বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানে৷

এর মধ্যে ভারতে প্রতি বছর গড়ে তিন লক্ষ নবজাতক জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায়৷ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ২৮ হাজার আর পাকিস্তানে ৬০ হাজার৷ এই হিসেবে বাংলাদেশে প্রতি মাসে প্রায় ২,৩৪০ জন নবজাতকের মৃত্যু ঘটে জন্মের প্রথম দিনেই৷

জন্মের সময় জটিলতা, গর্ভধারণের ৩৮তম সপ্তাহ পূরণের আগেই জন্ম নেয়া এবং রোগসংক্রমণ – এই তিনটি কারণেই এত সংখ্যক নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে সংস্থাটি বলছে৷ এছাড়া মায়েদের অপুষ্টিহীনতায় ভোগাও একটা কারণ৷

ভারত প্রসঙ্গে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ বলছে, পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে অনেক টাকা খরচ করছে৷ কিন্তু সমস্যা হলো, যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন তারাই কোনো সাহায্য পাচ্ছে না৷

এখনও ভারতের অর্ধেকেরও বেশি মা কোনো দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা ছাড়াই বাচ্চা জন্ম দিচ্ছেন৷ ফলে জন্মের সময় দেখা দিচ্ছে নানা জটিলতা ও রোগসংক্রমণ৷
সূত্র:ডিডাব্লিউ

এই গরমে ডায়রিয়া

Thursday, May 2nd, 2013

4091-18নিউজ বিএনএন ডটকম:এই গরমে হঠাৎ করে কারও দিনে তিন বা এর চেয়ে বেশি বার পাতলা পায়খানা হতে শুরু করলে তার ডায়রিয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
সাধারণত পরিপাকতন্ত্রে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণেই ডায়রিয়া হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এই সময় ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার প্রধান কারণ রোটা ভাইরাস, কখনো কখনো নোরো ভাইরাস। তবে পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে বা প্রবল জ্বর দেখা দিলে তা ভাইরাস নয়, বরং ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হয়। শহরে ট্যাপের পানি অনেক সময় সেপটিক ট্যাংক বা সুয়ারেজ লাইনের সংস্পর্শে দূষিত হয়। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, যেখানে-সেখানে ও পানির উৎসের কাছে মলত্যাগ, সঠিক উপায়ে হাত না ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এ সময় দোকান, রেস্তোরাঁ বা বাসায় ফ্রিজের খাবারে পচন ধরা ইত্যাদি ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ।
ডায়রিয়া হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় এবং রক্তে লবণের তারতম্য দেখা দেয়। এই দুটোকে রোধ করাই ডায়রিয়ার মূল চিকিৎসা। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর অন্তত দুই গ্লাস খাবার স্যালাইন পান করুন। সঠিক পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ও হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে এই স্যালাইন তৈরি করতে হবে। পাতলা পায়খানার সাথে রক্ত, জ্বর, প্রচণ্ড পেটব্যথা বা কামড়ানো, পিচ্ছিল মল, মলত্যাগে ব্যথা ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করুন। যথেষ্ট প্রস্রাব হচ্ছে কি না, লক্ষ করুন। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া বা জিব ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া পানিশূন্যতার লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে বা বমির কারণে পর্যাপ্ত স্যালাইন না খেতে পারলে শিরায় স্যালাইন দেওয়ার জন্য হাসপাতালে যান।

হৃদরোগ ঠেকাবে ইনজেকশন!

Wednesday, May 1st, 2013

95_342892নিউজ বিএনএন ডটকম:দারুণ এক আশার খবর শোনাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। হৃদরোগ-সংক্রান্ত এ খবরটা শোনামাত্র স্বস্তিতে নড়েচড়ে বসবে পৃথিবীজুড়ে কোটি কোটি মানুষ। বর্তমানে যে চিকিৎসা চালু আছে, তার কিছুই আর দরকার হবে না। শুধু একটা ইনজেকশন_ ব্যস, সব সমস্যার সমাধান। আক্রান্ত হৃৎপিণ্ড ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পেতে থাকবে। মেরামত হতে থাকবে তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের (বিএইচএফ) মেডিকেল
ডিরেক্টর প্রফেসর পিটার ওয়েসবার্গ বলেছেন, ‘হৃৎপিণ্ডবিষয়ক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটা নতুন ক্ষেত্রগুলোর একটা। এটা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। এর মাধ্যমে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসবে। কমে আসবে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের হারও। লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেসের রিপোর্টে জানানো হয়েছে এমনটা।
ইনজেকশনটা এখনও পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। আরও কিছু কাজ করতে হবে এর ওপর। গবেষকদের আশা, এটা যদি ঠিকমতো কাজ করে, তাহলে আট বছরের মধ্যে পৃথিবীর সব দেশেই পাওয়া যাবে। প্রফেসর ওয়েসবার্গ বলেছেন, বিএইচএফের গবেষণাগারে এটা নিয়ে বছরের পর বছর কাজ করা হয়েছে এবং এটা এখন একটা প্রতিশ্রুতিশীল আবিষ্কার হিসেবে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
গবেষকরা বলেছেন, এ ইনজেকশন আসলে এক ধরনের জিন থেরাপি। এ জিন হৃৎপিণ্ডের নষ্ট হয়ে যাওয়া রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়াগুলোকে পুনরুজ্জীবিত ও কর্মক্ষম করে তোলে। জিন থেরাপি হচ্ছে হার্ট সায়েন্স বা হৃৎপিণ্ডবিষয়ক বিজ্ঞানের এক নবতর সংযোজন। এটা হচ্ছে প্রযুক্তির সর্বশেষ নমুনা, যা ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন হৃদরোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করতে যাচ্ছে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, রোগ কিংবা ইনফেকশনের ফলে হৃৎপিণ্ডের কোষের ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষতি পোষাতেই জিনটির রয়েছে দারুণ ক্ষমতা। একবার যদি কোনোভাবে হৃৎপিণ্ডের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে খুব শিগগিরই হৃৎপিণ্ডের রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এক সময় হৃৎক্রিয়া বন্ধ হয়ে মানুষ মারা যায়।
তা কত পড়বে এই ইনজেকশনের দাম? খুব বেশি হবে না বলেই আশ্বস্ত করছেন গবেষকরা। কয়েকশ’ থেকে কয়েক হাজার পাউন্ড হতে পারে খুব বেশি হলে। প্রতিটি হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের খরচ যেখানে ২ লাখ পাউন্ড, সেখানে এ খরচ তার সামান্যই।সূত্র: খবর জি নিউজের।

উচ্চরক্তচাপ এক নীরব ঘাতক

Sunday, April 28th, 2013

22293_303,00নিউজ বিএনএন ডটকম:আপনি কী আপনার রক্তচাপ কত তা জানেন? উত্তরটি যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে বোঝা যাবে যে আপনি একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ৷ অনেকেরই কিন্তু তাদের রক্তচাপ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই৷ অথচ উচ্চরক্তচাপকে এক ধরনের নীরব ঘাতক বলা যায়৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডাব্লিউএইচও-র পক্ষ থেকে উচ্চরক্তচাপের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এক ক্যাম্পেন শুরু হয়েছে৷ এতে মানুষকে রক্তচাপ মাপার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হবে৷ খুব সহজেই মাপা যায় রক্তচাপ৷ বহু মানুষকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যায়৷ স্বাস্থ্যখাতে খরচও কমে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৯.৪ মিলিয়ন মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে মারা যায়৷ যা মূলত ঘটে থাকে উচ্চরক্তচাপের কারণে৷ সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে, যদি রোগ দুটিকে এক সঙ্গে ধরা হয়৷

ইউরোপের তুলনায় আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলিতে বেশিরভাগ মানুষ সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়৷ কিন্তু হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো তথাকথিক সভ্যতার রোগ ব্যাধিগুলি এখন আর পিছিয়ে নেই৷ আফ্রিকা ও এশিয়ায় বিস্তৃত হচ্ছে এসব৷

ডাব্লিউএইচও-র তথ্য অনুযায়ী, ৪৬ শতাংশ আফ্রিকান ৬০ বছর বয়স হওয়ার আগেই হৃদযন্ত্রের অসুখ বিসুখে মারা যায়৷ শিল্পোন্নত অনেক দেশে অকাল মৃত্যুর জন্য মূলত হার্ট ও মস্তিষ্কের রোগ ব্যাধি দায়ী৷ ডাব্লিউএইচও-র অসংক্রামক ব্যাধি বিভাগের ডা. শান্তি মেন্ডিস এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এখন এই ধরনের রোগব্যাধির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ উচ্চরক্তচাপের মতো উপসর্গগুলিই এর মূল কারণ৷”

ঝুঁকিতে এখন দরিদ্র দেশের জনগণ

কারো দেহে উচ্চ রক্তচাপ সনাক্ত করা হলেই যে তিনি ধীরে ধীরে মৃত্যুমুখে পড়বেন, তা নয়৷ সঠিক সময় ধরা পড়লে এর চিকিত্সা সম্ভব৷ ধনী দেশগুলিতে লোকজন নিয়মিত ডাক্তারের কাছে চিকিত্সা ও চেকআপের জন্য যান৷ এক্ষেত্রে রক্তচাপ মাপাটা একটি রুটিন মাত্র৷ স্বাস্থ্যবিমা এসব খরচ বহন করে৷ উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লে সাথে সাথে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়৷ কিন্তু দরিদ্র দেশগুলিতে স্বাস্থ্য বিমার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই৷ চিকিত্সা ও চেকআপের খরচ রোগীদের পকেট থেকেই দিতে হয়৷ তাই অনেকেই কঠিন কোনো উপসর্গ না থাকলে ডাক্তার দেখাতে চান না৷ ফলে উচ্চরক্তচাপের মত রোগ ধরা পড়েনা৷ তাই এটি দমন করার জন্য কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না৷

ডাব্লিউএইচও-র প্রধান মার্গারেট চ্যান সতর্ক করে বলেন, ‘‘সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ বহু বছর ধরে থাকলেও কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না৷ এর মাত্রা অত্যন্ত উঁচু হলেও ভুক্তভোগীরা তা বুঝতে পারে না৷”
রক্তচাপ খুব সহজেই মাপা যায়

বিশ্বের বহু মানুষ ভুক্তভোগী

বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়ন মানুষ উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন৷ ধারণা করা হয়, এই সংখ্যাটা আরো বৃদ্ধি পাবে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর কারণ হিসাবে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাই দায়ী বলে মনে করে৷ খাবারে অতিরিক্ত লবন, মদ্যপান, ধূমপান, আলস্য ইত্যাদি উচ্চরক্তচাপের পথকে প্রশস্ত করে৷ ড. মেন্ডিস এই প্রবণতাটা ইদানীং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও লক্ষ্য করছেন৷ নগরায়নের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রারও পরিবর্তন হচ্ছে সেসব দেশে৷ আগে সেখানকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস অন্যরকম ছিল৷ কায়িক পরিশ্রমেও অভ্যস্ত ছিলেন তারা৷ আজকাল স্যুপ ও বিভিন্ন খাবারে বেশি লবণ ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে৷ কায়িক পরিশ্রমেও অনীহা লক্ষ্য করা যায়৷ আর এসবই উচ্চ রক্তচাপকে প্রভাবিত করে৷

কম লবণ, বেশি ফলমূল ও তরিতরকারি এবং হাঁটাচলা এই কয়েকটি দিকে লক্ষ্য রাখলেই উচ্চ রক্তচাপকে আয়ত্তে আনা যায়৷ এই রোগের চিকিত্সায় খরচও খুব বেশি নয়৷ সস্তায় এখন নানা ধরনের ওষুধপত্র পাওয়া যায়৷ দরিদ্র দেশগুলিতে বছরে একজন এক ডলারেরও কম খরচে এই রোগের চিকিত্সা করাতে পারে৷ মধ্য আয়ের দেশগুলিতে বছরে এ বাবদ দুই থেকে তিন ডলারের মতো লাগতে পারে৷
উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাঁচতে খাওয়া দাওয়ায় নিয়ম মানতে হবে

অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা না করালে খরচটা অনেক বেশি হতে পারে৷ যেমন একারণে হার্টের অসুখ বিসুখ দেখা দিলে তার চিকিত্সা বা বাইপাস অপারেশন করাতে হলে৷

রক্তচাপ পরীক্ষা জরুরি

ডাব্লিউএইচও-র প্রধান মার্গারেট চান মনে করেন, রক্তচাপ পরীক্ষা বিনামূল্যে হওয়া উচিত৷ আর এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন৷ তবে সবার আগে প্রত্যেককে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে৷ জানতে হবে রক্তচাপের পরিমাপ৷ পরিবর্তন করতে হবে জীবনযাত্রা৷ প্রয়োজন হলে খেতে হবে ওষুধ৷ এই ভাবেই এই অদৃশ্য ও নীরব ঘাতকটির বিরুদ্ধে করতে হবে লড়াই৷সূত্র:ডিডাব্লিউ

 

ফোন : +৮৮ ০২ ৯৬১ ৩৯৪২-৩, ফ্যাক্স : +৮৮ ০২ ৮৬৫ ৩৪৬৫, মোবাইল : +৮৮ ০১৭১১ ৫২৯৯২৩, +৮৮ ০১৯২১ ০৭৬৪২৯, + ৮৮ ০১৯২৩ ৩৬৮২৯১ ।
 ইমেইল : 
newsbnn@gmail.com , editor@newsbnn.com, info@newsbnn.com,  ওয়েব : www.newsbnn.com

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো:মাহাবুবুর রহমান