Archive for the ‘পরিবেশ’ Category

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জাবির লেক

Saturday, November 17th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: প্রাকৃতিক সৌন্দর্র্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবুজ ক্যাম্পাস এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। শীত আসতে না আসতেই প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের অতিথি পাখিরা আসতে শুরু করেছে। অতিথি পাখির আগমনে ক্যাম্পাসের পদ্মে শোভিত লেকগুলোর সৌন্দর্য অতিমাত্রায় বর্ধিত হয়েছে।

উপযুক্ত পরিবেশ আর নিরাপদ আশ্রয়ে এসব অতিথি পাখি নির্ভাবনায় মেতে উঠেছে জলকেলীতে। কেউ আবার ডুব সাঁতারে ব্যস্ত। লেকের কোথাও তারা জুটিবদ্ধ ভাবে নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।  কখনো তারা চক্রাকারে উড়ে বেড়াচ্ছে ক্যাম্পাসের মুক্ত আকাশ জুড়ে। এসব অথিতি পাখির কলকাকলি আর কিচিরমিচির শব্দে ক্যাম্পাসে মধুময় সুরের আবহ বিরাজ করছে। এখন ক্যাম্পাসবাসীর ঘুম ভাঙে অথিতি পাখির কলকাকলিতে। আবার সারাদিন কর্মব্যস্ততা শেষে অথিতি পাখির মধুময় সুরে ঘুমিয়ে পড়েন তারা।

এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট বড় ১৬/১৭টি লেক থাকলেও মাত্র দুইটি লেককে পাখিদের জন্য অভয়ারন্য হিসাবে ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। এবার বানিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষ ও পুকুর সংস্করন না করায় এবং সঠিক সময় লাল শাপলা প্রতিস্থাপন করায় পাখিদের বিচরন দেখা যাচ্ছে। লাল সীরামিকের সুদৃশ্য অট্টালিকা আর সবুজাভ প্রকৃতির টানে বছর জুড়ে ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের সমাগম থাকলেও বর্তমানে তাদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে দর্শানার্থীদের ভিড় জমে অতিথি পাখির কিচির মিচির শব্দ শোনার জন্য।

প্রতিবছর উত্তরের শীত প্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। মুলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে। আবার মার্চের শেষদিকে তারা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পর্যাবেক্ষন কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর ২৪৪ প্রজাতির অতিথি পাখির মধ্যে ক্যাম্পাসে সাধারনত ১২/১৩ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। এদের বেশির ভাগই হাঁস জাতীয় ও পানিতে বসবাস করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পাখি আসে তার মধ্যে বেশির ভাগই হাঁস জাতীয়। এর মধ্যে সরালি, খঞ্জনা, পাতারিহাঁস, পাতিতারা, নোনাজোৎসা, গয়ার, ধুপানি, লালমুড়ি, বামুনিয়া হাঁস, সি›ধু ঈগল, বাড়িঘোরা, হুড হুড ইত্যাদি প্রধান।

এসব পাখি অতিশীত প্রবণ উত্তর মেরু থেকে নিজেদের বাঁচাতে দক্ষিণের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে আসে। এরা ডানায় ভর করে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এ অঞ্চলে আসে। আর এ অতিথি পাখিদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লেকগুলো পরিষ্কার করা হয়। ইতোমধ্যে পাখিদের নিরাপত্তার জন্য লেকগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিথি পাখিদের আগমন উপলক্ষে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘পাখি মেলা’।

শীতলক্ষ্যা দূষণ, বিদেশি কারখানার সাড়ে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা

Thursday, November 15th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম : রাজধানীর অদূরে আদমজীনগর (নারায়নগঞ্জ)-এ হংকং-এর মালিকানাধীন একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শীতলক্ষ্যা নদী দূষণের দায়ে ১৬.৫৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে এ কারখানার বর্জ্য পরিশোধনাগারটি (ইটিপি) অকার্যকর পাওয়া যায়। এ কারখানা নিঃসৃত তরল বর্জ্য পরীক্ষা করে দ্রবীভূত অক্সিজেন পাওয়া যায়নি (ন্যূনতম মাত্রা ৪.৫-৮.০ মিঃগ্রাঃ/লিঃ) এবং সিওডি পাওয়া যায় বিপজ্জনক মাত্রায় (৪৩৪ মিঃগ্রাঃ/লিঃ)।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী এ অপরাধে বৃহস্পতিবার ভবনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কুন তং এপারেলস লিঃ নামক কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুনানি শেষে এ দণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি বর্জ্য পরিশোধনাগার পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর পক্ষে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহম্মদ হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে জানান।

কারখানা মালিকের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জি.এম সুধিস নামবিয়ার এবং উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন খান (বেপজার সাবেক চেয়ারম্যান ও পুলিশের সাবেক অতিঃ আইজিপি) পরিবেশ অধিদপ্তরে উপস্থিত হন এবং শুনানিকালে ঘটনার দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে দূষণ বন্ধ করতে এরইমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী বলেন, “ইটিপি বন্ধ বা অকার্যকর রেখে পরিবেশ দূষণ ঘটানোর দিন শেষ হয়ে আসছে। দূষণ ঘটানো অপরাধ এবং এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে।

দণি চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে বসতঘর নির্মাণের হিড়িক

Wednesday, November 14th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম:দণি চট্টগ্রামের সর্বত্রই পাহাড় ও ছোট ছোট টিলা কেটে বসতঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এমনিতেই এই অঞ্চলের পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার পরিবার মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। নতুনভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল পাহাড়-টিলা কেটে নতুন বসতঘর নির্মাণ শুরু করেছে। এভাবে পাহাড় ও টিলা কেটে বসতঘর নির্মাণ ও জমি তৈরি করার ফলে পরিবেশ বিপর্যের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বছরের পর বছর ধরে পাহাড় ও টিলা কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রি, জমি তৈরি ও বসতঘর নির্মাণের ফলে পাহাড় ধসের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিলেও মাঝপথে অদৃশ্য কারণে সেই উদ্যোগ ধামাচাপা পড়ে যায়।

মাঠপর্যায়ে সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বর্তমানে দক্ষিণ চট্টগ্রামে নতুনভাবে পাহাড় ও টিলা কেটে বসতঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে বাঁশখালীর পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালিপুর, জলদি, বৈলছড়ি, পুইছড়ি, চাম্বল, সাতকানিয়ার চরতী, পুরানগড়, বাজালিয়া, ছঁদাহা, সোনাকানিয়া, জঙ্গল মার্দাসা, পটিয়ার কেলিশহর, হাইদগাঁও, শ্রীমাই, চা-বাগান, পশ্চিম পটিয়া, বড় উঠান, বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা, জ্যৈষ্ঠপুরা, আমুচিয়া, আনোয়ারার হাজিগাঁও, বটতলী, বৈরাগ, শাহ মিরপুর, বদলপুরা, লোহাগাড়ার চুনতি অভয়ারণ্য, আধুনগর, কলাউজান, বড়হাতিয়া, চরম্বা, চন্দনাইশের ধোপাছড়ি, লালুটিয়া, জঙ্গল জামিজুরী, জঙ্গল হাশিমপুর, ছৈয়দাবাদ ৪১ নং ও ৭৫ নম্বর লটএলাহাবাদ, কাঞ্চননগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন প্রভাবশালীরা বসতঘর নির্মাণ ও জমি তৈরি করছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কাজী বরকত আলী জানান, পাহাড় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। তাকে কোনোভাবেই ডিস্টার্ব করা যাবে না। বর্তমানে পাহাড় কাটা, বনজসম্পদ উজাড় হওয়ার ফলে পাহাড় ধসের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই পাহাড় ও বনজসম্পদ কাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

পাহাড় ও টিলা কেটে বসতঘর নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত রেজা, বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলশাদ বেগম জানান, পাহাড়-টিলা কেটে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইভাবে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সাতকানিয়ায় নতুনভাবে কোনো পাহাড় কাটা হচ্ছে না। তার পরও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদারকি করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারাহ দিবা বলেন, লোহাগাড়ায় পাহাড় ও টিলা কাটার বিষয়ে ইতঃপূর্বে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়েছে। নতুনভাবে কেউ যদি পাহাড়-টিলা কেটে বসতঘর নির্মাণ কিংবা জমি তৈরি করে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত

Tuesday, November 13th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতকে স্থানীয় আফ্রিকান ভাষায় বলে ‘মোসি ওয়া-টানইয়া’, যার অর্থ বজ্র সহ ধোঁয়া। কিছু পরিমাপে ও এ জলপ্রপাত পৃথিবীর সবচেয়ে বড়। তবে এ বিষয়টি নিয়ে অনেক বিতর্কও আছে। যদিও ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত সবচেয়ে উঁচু বা প্রশস্ত কোনোটিই নয়।

তবুও কিছু যুক্তির ভিত্তিতে একে সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত বলা হয়। কারণ ১.৭ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং ১০৮ মিটার (৩৬০) উচ্চতার ফলে এখানে সবচেয়ে বড় জলধারা নিচে পতিত হয়। ভিক্টোরিয়ার জলপ্রপাত আরও একটি কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ এলাকা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং অন্যান্য যে কোনো জলপ্রপাতের চেয়ে এখানে অনেক বেশি বন্যপ্রাণী দেখা যায় খুব সহজেই।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। তা ছাড়া এটি ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক প্রকৃতির সানি্নধ্যে কাটাতে এখানে ছুটে আসেন।

লোকজ ঐতিহ্যের সমারোহে গড়ে উঠা নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পট!

Monday, November 12th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: সবুজ গাছপালায় ঘেরা হাজারো পাখির কলকাকলি, আকর্ষণীয় ফুলের বাগান, মিনি চিড়িয়াখানা, দৃষ্টিনন্দন পুকুর, বাহারি ফুয়ারা, আর গ্রাম বাংলার বিলুপ্ত প্রায় লোকজ ঐতিহ্যের সমারোহে গড়ে উঠা নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পট। আম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারী, লেবু, মেহগুনি, রবার, পান্থমাধব, ক্রিস্টমাস ট্রি আর ঝাউ গাছে সমৃদ্ধ ওইপেন গাছের বেড়ায় ঘেরা ফুলের বাগানগুলোতে গোলাপ ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, লিলি, গ্লোবল, রজনীগন্ধা, সুর্য্যমুখি ফুলের সমারোহে মনোরম এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বিনোদন প্রিয় মানুষের কলকন্ঠে এ পিকনিট স্পট সবসময় মুখরিত থাকে। সারা বছর নিরিবিলি পিকনিক স্পটে বিনোদন প্রিয় মানুষের কমবেশি আনাগোনা থাকলেও শীত মৌসুমে পর্যাটকদের সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ পিকনিক স্পটে প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে শতাধিক বাস, মিনিবাস, কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ট্যাম্পু, ভ্যান ও বাইসাইকেলে চড়ে অসংখ্য নারী পুরুষ ও শিশু আসছে। এ যেন বিভিন্ন বয়সের মানুষের এক মিলনস্থল।

আজ থেকে আনুমানিক ২৫০ বছর আগে এলাকাটি বনজঙ্গলে ঘেরা ছিল। সে সময় বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা আর বিচিত্র বন্য প্রাণীর বিচরণে নিরিবিলিতে প্রকৃতির এক বিশাল রাজ্য ছিল। হঠাৎ একদিন এখানে আবির্ভাব হন আধ্যাত্নিক সাধক পুরুষ শাহ্ পজু দেওয়ান। এ সময়ে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দূর দুরান্ত থেকে অসংখ্যা মানুষ এই কামেল পুরুষের বাইয়াত গ্রহণের জন্য আসে। নিরিবিলি পিকনিক স্পটে প্রথম প্রবেশ পথের পাশে পজু শাহের মাজার অবস্থিত। এখানে তিনি একান্ত নিরিবিলিতে ঘুমিয়ে আছেন। কোনদিন তিনি আর জাগবেন না। নিরিবিলিতে আগন্তক দর্শানার্থী পথিকদের তিনি যেন ডেকে বলেন- দাঁড়াও বন্ধু এখানে বহুদিন আগে আমার এমন স্বপ্ন ছিল। আমারই সেই স্বপ্ন! আমারই নিরিবিলির পিকনিক স্পট !

দর্শনীয় বিষয়সমুহ :
প্রায় ১৪ একর জমির উপর অবস্থিত পিকনিক স্পটটিতে পিকনিক আর পার্কিং এর ব্যাবস্থা ছাড়াও বিনোদনের জন্য রয়েছে অনেকগুলো দৃষ্টিনন্দন বাড়তি আয়োজন। এগুলোর মধ্যে মিনি চিড়িয়াখানা, মিনি মিউজিয়াম, রেস্টহাউজ, এস. এম. সুলতান আর্টগ্যালারী, কুঠিরশিল্প সামগ্রীর স্টলসহ নানা ধরনের আয়োজন। খুলনা লক্ষীপাশা রুটের গা ঘেঁষে রাস্তার উত্তর পার্শে সুবিশাল গেট। ঝকমকা অক্ষরে বড় বড় করে লেখা নিরিবিলি পিকনিক স্পট। দশ ফুট প্রসস্ত সোলিং রাস্তা ধরে কয়েকশত গজ ভেতরে এলেই প্রথম প্রবেশদ্বার। এই প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকে সোজা চলে যাবেন স্পটের প্রশাসনিক ভবনে। এখান থেকেই শুরু করতে পারেন আপনার পরিদর্শন কার্যক্রম। এই ভবনটি দ্বিতল। নিচতলায় প্রশাসনিক কক্ষ আর দোতলায় রয়েছে রেষ্ট হাউজ ও এস. এম সুলতান আর্ট গ্যালারী।

সম্মুখে চমৎকার হংস ফোয়ারা। যার চারদিকটা কয়েকটি ক্রিস্টসমাস ট্রি দ্বারা ঘেরা। ডানে পুকুর। চারপাশে বাঁধানো পাড় আর শাঁনবাধা ঘাট ও ভিতরে ঝুলন্ত ব্রিজ। পুকুরের উত্তর পাড়ে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্বখ্যাত চিত্র শিল্পী এস. এম. সুলতানের প্রতিমূর্তি। পাশে চমৎকার ফোয়ারা। ফোয়ারার পাশ দিয়ে একটু বামে মোড় নিলে শিশুদের জন্য তৈরী বিশেষ ধরণের চরকা, তার নিকটে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী বিদেশী শ খানেক ক্যাকটাস। এর ডানে রয়েছে একটি সুরক্ষিত ফুলের বাগান। যেখানে দেশী বিদেশী অনেক জাতের ফুলগাছ রয়েছে। এই বাগানটিতে আরও রয়েছে দুটি শাপলাকৃতি ফোয়ারা ও ঐতিহাসিক সিরাজউদৌলা খ্যাত নর্তকী আলেয়া বেগমের প্রতিকৃতি। সংরক্ষিত এই গার্ডেন থেকে বেরিয়ে সামনে এলে মিনি চিড়িয়াখানা।

চিড়িয়াখানার ঠিক উত্তরে আবাসিক ভবন। এই ভবনের নিচতলায় রয়েছে নামাজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। তার দক্ষিণে ১নং ভবনের পূর্ব মুখে বয়ের স্টল ও কুঠির শিল্প সামগ্রীর স্টল রয়েছে। চিড়িয়াখানার পশ্চিম পাশদিয়ে ২নং গেটের ঠিক উত্তর পার্শে রয়েছে কামিনি গাছের তৈরী সবুজ ঘোড়া ও সবুজ হাতি। এর সামনে দিয়ে ডানে মোড় নিলে শিশুদের জন্য দোলনা। সোজা গিয়ে বামে দেখা যাবে কুঠির শিল্প সামগ্রী আর ফার্স্ট ফুডের দোকান। বই স্টলের পাশ দিয়ে একটু সামনে গেলেই পাওয়া যাবে “ইমদাদুল হক মিলন মঞ্চ” এর ঠিক ডানে ব্যাটরী চালিত গাড়ির টানিং রোড। টর্নিং রোডের ভিতরে বিত্তাকার জায়গায় রয়েছে নানান ধরণের গোলাপ ফুলের গাছ।

পাশেই ঘোড়া দৌড়ের জন্য প্রসস্ত রাস্তা। কিছু দক্ষিণে কামিনি গাছের তৈরী ময়ুর, হরিণ, এ্যারোপ্লেন, পন্ডিত মহাশহের টেবিল ইত্যাদির প্রতিকৃতি।

নিরিবিলিতে যেভাবে যাবেন :
বৃহত্তর যশোর জেলার অন্তর্গত বর্তমান নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার লক্ষীপাশার অদুরে রামপুর নামক স্থানে স্পটটি অবস্থিত। আপনাকেও এই স্পটে পিকনিক পার্টি কিংবা বেড়াবার জন্য যেতে হলে আগে জানা দরকার আপনি কোথা থেকে যাবেন। আপনার বা আপনার বন্ধুদের অবস্থান যদি ঢাকা বা পদ্মার ওপারের যেকোন জেলায় হয় যেমন চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালি কিংবা ময়মানসিংহ, জামালপুর। তাহলে যেভাবে যাবেন – তাহচ্ছে প্রাইভেট বা রিজার্ভ গাড়ী হলে ঢাকা থেকে ভায়া আরিচা দৌলদিয়া যশোর টু নড়াইল তারপর চিত্রা নদী পার হয়ে ১৫ মিনিটের রাস্তা নিরিবিলি পিকনিক স্পট।

আর যদি একটু কম ব্যয়ে বেড়িয়ে আসতে চান তাহলে ঢাকা লক্ষীপাশা রুটের হিনো স্যালুন কোচ যেমন: সোহাগ, ঈগল, আনন্দ, দ্রুতি, দিগন্ত, খালেক, ফাইভস্টারের যেকোন একটি নিয়োমিত পরিবহনে চড়ে বসতে পারেন। ভাড়া জনপ্রতি ১২০ টাকা থেকে ১৫০ পর্যন্ত। চিত্রা নদী পার হলে ১৫ মিনিটের রাস্তা এলে দেখবেন হাই ওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে নিরিবিলি পিকনিক স্পটটি। ঢাকা থেকে অবশ্য বিমানযোগে যশোর পর্যন্ত আসা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অতি অল্প সময়ে যশোর এলেই একটি প্রাইভেট গাড়ী নিয়ে অনায়াসে চলে আসতে পারেন এ স্থানে।

আপনার অবস্থান যদি উত্তর বঙ্গের জেলা যেমন : রাজশাহী, দিনাজপুর কিংবা কুষ্টিয়া এমনকি পাশ্ববর্তী মাগুরা ঝিনাইদহ চুয়াডাঙ্গা হয়ে থাকে তাহলে প্রথমে যশোর তারপর যশোর থেকে অনায়াসে লক্ষীপাশা রুটের বাসে আসতে পারবেন। আপনি যদি ফরিদপুর কিংবা গোপালগঞ্জ,বরিশাল পটুয়াখালি জেলা থেকে আসতে চান তাহলে আপনি দুটে রাস্তার যেকোনও একটি হয়ে আসতে পারেন তা হচ্ছে ভায়া যশোর হয়ে কিংবা ভায়া গোপালগঞ্জ ভাটিয়াপাড়া কালনা ঘাট হয়ে সোজা পূর্বদিকদিয়ে সোজা স্পটে। অবশ্য এক্ষেত্রে আপনাকেই বিবেচনা করতে হবে যে আপনার জন্য কোন রাস্তাটি অধিক সুবিধা হবে। নিরিবিলি স্পটের প্রধান ফটকটি দাঁড়িয়ে আসে খুলনা লক্ষীপাশা হাই ওয়ের পাশেই। তাই হারিয়ে যাবার কোনও ভয় নেই। এ রাস্তায় চলতে গাড়ীর জানালা খুললেই স্পটটি চোখে পড়বে। তখন তৃপ্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলবেন এই তো এলাম !

জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব জোরদার করার আহ্বান

Sunday, November 11th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব আরো জোরদার করতে হবে। যদিও বাংলাদেশ জলবায়ু সম্পর্কিত ৫ টি কমিটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে সামগ্রিকভাবে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। এমন কি এলডিসি দেশসমূহের মধ্যেও বাংলাদেশের ভূমিকা অতি নগণ্য। ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জলবায়ুর ক্ষতি পূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে যে অর্থ দেয়ার কথা ছিল, তার বিরাট অংশ এখনও দেয়নি উন্নত দেশগুলো।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জলবায়ু বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন।

অক্সফাম ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ।

বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা  করেন পরিবেশ ও বন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দীন আহমদ এমপি ও পরিবেশ ও বন বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব শফিকুর রহমান পাটওয়ারী।

গিয়াস উদ্দীন আহমদ এমপি জলবায়ু মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কৃতিত্ত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার জলবায়ু মোকাবেলায় সব ধরনের উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে। তবে সচেতনতা সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন।

সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ শামসুদ্দোহা।

এই মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলন “কনফারেন্স অফ দি পার্টিস অফ দি ইউএনএফসিসিসি-১৮” (কপ-১৮)।
উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্বদান করবে একটি নিগোশিয়েট টিম ।

গোলটেবিল বৈঠকে নিগোশিয়েট টিমের বিভিন্ন পলিসি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

দূর থেকে মনে হবে সবুজ বনের দ্বীপ!

Sunday, November 11th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: ভ্রমন প্রিয়াসী দের কাছে কুয়াকাটা অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় । ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। কুয়াকাটায় থাকার জন্য বন বিভাগের রেস্টহাউস ও বেসরকারি হোস্টেল রয়েছে। ভ্রমন প্রিয়াসীরা কুয়াকাটায় আরেক টি জায়গায় বেড়াতে যেতে পারেন,সেটা হল ফাতরার বন ।

কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে করে ফাতরার বনে যেতে পারেন। ঘন্টা হিসেবে ট্রলার ভাড়া করে নিয়ে ঘুরে দেখে আসুন চমৎকার একটা বন্য পরিবেশ।কুয়াকাটার খুব কাছেই রোমাঞ্চকর এই ফাতরার বন। অনেকেই কুয়াকাটা বেড়াতে যান, কিন্তু ফাতরার বনে যান না বা হয়তো নামও শুনেননি। ওই বনে যাওয়ার জন্য ভালো ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকাটাও অবশ্য একটা কারণ হতে পারে।

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ট্রলারে করে খুব সহজেই যাওয়া যায়।সমুদ্রে ভয় পাওয়ার মতো যথেষ্ট উত্তাল ঢেউ এখানে রয়েছে। আর এটাও একটা অনাগ্রহের কারণ হতে পারে ফাতরার বনে যাবার। প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রলারে টানা চলার পর চোখে পড়বে সাত-আট কিলোমিটার বিস্তৃত সারি সারি গাছ আর ঘন বনজঙ্গল।

দূর থেকে মনে হবে সবুজ বনের দ্বীপ। বনের কোলঘেঁষেই একটা খাল বনের গভীরে চলে গেছে। খালের মধ্য দিয়ে কিছু দূর এগোনোর পরই আমতলী ফরেস্ট রেঞ্জের বাংলো পড়বে। বনের মধ্যে সাজানো-গোছানো একটি সুন্দর পুকুর। এর পাশে বাংলোর মতো একটা বাড়ি। আর আশপাশে দু-একজন মানুষ। এই বনে মাঝেমধ্যে জেলেরা মাছ ধরতে আসে। এ ছাড়া মানুষ বা কোনো বন্যপ্রাণীর আনাগোনাও নেই।

চারদিকে শুধুই ঘন বন আর বন । চারদিকে এত ঘন জঙ্গলে ভরা কল্পনাও করা যায় না। চারদিকে শুধুই নিস্তব্ধতা। ভয় পাবার মতো পরিবেশ হলেও রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষদের কাছে খুবই ভালো লাগবে। গভীর জঙ্গলের ভেতর শান্ত-কোলাহলমুক্ত এত সুন্দর একটা বাংলো বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। যারা নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করেন ও যারা সাহসী এবং যারা নতুন কে জাতে চান তারা অবশ্যইএখানে বেড়াতে যেতে পারেন ।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গল

Saturday, November 10th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: একটি কুঁড়ি দু’টি পাতার সবুজে ভরা মায়াবী স্বপ্নপুরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা। দেশের অপার সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। এ উপজেলাকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে পুরো এলাকার অর্থনীতিই বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে এ এলাকা দেশের অর্থনীতিতে রাখতে পারে বিশেষ অবদান। শ্রীমঙ্গলে যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে; সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে পুরো দেশের অর্থনীতিতে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর পর্যটন হচ্ছে সবচেয়ে সম্ভাবনার খাত ।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলের পরিচিতি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল বছরের প্রতিটি দিনই দেশি- বিদেশি পর্যটকে থাকে মুখরিত। দেশের সবচেয়ে বেশি চা-বাগান সমৃদ্ধ শ্রীমঙ্গলে হাজার হাজার পর্যটক চা-বাগানের দুর্বার আকর্ষণে ছুটে আসেন। চা শিল্প যেমন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তেমনি পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের লেবুও এখন অন্যতম অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।

প্রতি মাসে শ্রীমঙ্গলে বেচাকেনা হয় কোটি টাকার লেবু।এছাড়া রাবার চাষ থেকে শ্রীমঙ্গলে এখন বিপুল পরিমানে আয় হচ্ছে। আরো রয়েছে কাঠ, পানসহ বনজ সম্পদ। এসব থেকেও আয় হয় বিপুল রাজস্ব। শ্রীমঙ্গলের মাটির নিচে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস। হাইল-হাওরে রয়েছে মৎস্য সম্পদসহ বিভিন্ন জলজ সম্পদ। অথচ পর্যটন শিল্পসহ অন্যান্য খাতগুলোর উন্নয়নে নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। পর্যটনসহ চা, রাবার, লেবু, পান, মৎস্য সম্পদ খাতের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে আয় হতে পারে বিপুল পরিমান টাকা।

এককালে মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ শ্রীমঙ্গলের হাইল-হাওরে আছে মৎস্য সম্পদসহ নানা জলজ সম্পদ। হাওরের বাইক্কা বিলটি এখন মাছের অভয়াশ্রম ও দেশি- বিদেশি পাখির অভয়ারণ্য। নানা জাতের পাখির বিচরণ এবং পাহাড়- সমতল- জলাভূমির এমন অপূর্ব সৌন্দর্যের দেখা মিলবে শ্রীমঙ্গলে।

খাসিয়াপুঞ্জি ও তাদের পানের বরজ, লাউয়াছড়া জাতীয় পার্ক, চা-বাগান, মনিপুরীপাড়া, মনিপুরী তাঁতশিল্প, ডিনস্টন সিমেট্রি, চা-জাদুঘর, বিটিআরআই, নির্মাই শিববাড়ী, বার্ণিস টিলা, গলফ ফিল্ড, পাখি বাড়ি, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, চা-বাগানের লেক, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি ৭১, টিপরাপল্লী, গারোপল্লী, টি-রিসোর্ট, লালমাটি পাহাড়, রাবার, লেবু, আনারস বাগান, বাঁদুড় বাড়ি-এমন অসংখ্য দর্শনীয় ও পর্যটন স্পট রয়েছে শ্রীমঙ্গলে। সব মিলিয়ে দেশের অনন্য এক দর্শনীয় স্থান শ্রীমঙ্গল।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা সত্ত্বেও এ শিল্পের তেমন বিকাশ ঘটছে না শ্রীমঙ্গলে । শ্রীমঙ্গলে এ শিল্পের বিকাশ ঘটানো গেলে এখানকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এখানে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু হোটেল, রিসোর্ট, বাংলো, কটেজ প্রভৃতি।

বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মিত হচ্ছে। তবে এখানে নেই কোনো পর্যটন মোটেল। নেই পর্যটন কর্পোরেশনের তথ্যকেন্দ্র। অথচ সারাদেশের সাথে শ্রীমঙ্গলের খুব ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে রেল ও সড়কপথে। দূর্বল অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্যোগের অভাবে শ্রীমঙ্গলে এখনো সেই অনুপাতে দেশি- বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটছে না। অপার সম্ভাবনা সত্ত্বেও কেবল সুষ্ঠু পরিকল্পনা, বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন, ও উদ্যোগের অভাবে এখানে তেমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক আসছেন না । সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও উদ্যোগই বদলে দিতে পারে পর্যটন সম্ভাবনার শ্রীমঙ্গলকে।

মাকড়সার বিচিত্র যৌন জীবন!

Thursday, November 8th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: মাকড়সার যৌন জীবন ভারি বিচিত্র। বিশেষ করে আরগিওপ ব্রুয়েন্নিচি জাতের মাকড়সার। ওদের মধ্যেকার বুদ্ধিবিবেচনাসম্পন্ন পুরুষরা স্ত্রীদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে।পুরুষদের যৌনকর্মের ব্যাপারটা জীবদ্দশায় বড়জোর দুই পর্বের হয়ে থাকে। কারণ সঙ্গমকর্মের মধ্য দিয়ে তাদের যৌনাঙ্গ বিনষ্ট হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম দফা মিলনের পরই পুরুষকে মেরে খেয়ে ফেলে স্ত্রী মাকড়সা।

প্রথম দফা মিলনের সময় এই সংহার পর্বটি যদি না হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে পুরুষের সামনে খোলা থাকে দুটি পথ হয় একই স্ত্রীর সঙ্গে ফের মিলিত হওয়া, নয়ত নতুন সঙ্গিনীকে খুঁজে বের করা।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, আরগিওপ ব্রুয়েন্নিচি জাতের মাকড়সার যৌনমিলনগত আচরণের ক্ষেত্রে বাছবিচারের ব্যাপারটা পুরুষরা প্রথম যে স্ত্রী মাকড়সার সঙ্গে মিলিত হয়ে থাকে তার আকার ও বয়সের ওপর নির্ভর করে।

স্বগ্রোত্রভুক্ত মাকড়সার ক্ষেত্রে একগামী হওয়ার অর্থ হলো পুরুষদের জীবন অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী হতে পারে। এতে অবশ্য পিতৃত্বের সম্ভাবনা বাড়ে। ব্ল্যাক উইডো গোত্রের পুরুষ মাকড়সারা নিজেদেরকে খাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে মিলনের স্থায়ীত্বকাল বাড়াতে এবং সেই কারণে নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়াটি সফল করে তোলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। আরগিওপ ব্রুয়েন্নিচির মতো একগামী মাকড়সারা একটা বিশেষ ধরনের উপাঙ্গ গড়ে তুলেছে যা স্ত্রী মাকড়সার জননেন্দ্রীয়ে পুরুষ মাকড়সার শুক্রাণু স্থানান্তরের কাজে ব্যবহার করা হয়।

এই বিশেষ উপাঙ্গ আসলে হলো এক বিশেষ জননেন্দ্রীয়। মিলনের সময় এগুলো সাধারণত নষ্ট হয়ে যায়। কিংবা আরও স্পষ্টভাবে বললে স্ত্রী মাকড়সার জননেন্দ্রীয়ের ভেতরেই খসে পড়ে একটা ছিপির মতো বস্তু তৈরি হয়। এই ছিপির কারণেই পরবর্তীকালে বিভিন্ন পুরুষ মাকড়সা একই স্ত্রী মাকড়সার সঙ্গে মিলিত হয়ে তার ডিম্ব নিষিক্ত করতে পারে না। পরিণতিতে প্রতিটি পুরুষ মাকড়সা গোটা জীবদ্দশায় মাত্র দু’বার মিলিত হতে পারে। তবে কথা হলো মিলনের পর্বটি খুব বেশিক্ষণ ধরে চলতে থাকলে স্ত্রী মাকড়সা সাধারণত পুরুষটিকে খেয়ে ফেলে।

মিলনের প্রথম পর্বে পুরুষ মাকড়সা যদি বেঁচে যায় তখন তার সমানে দুটি পথ খোলা থাকে যার একটিকে তারা বেছে নিতে পারে। সেটা হলো সেই স্ত্রীর সঙ্গে আবার মিলিত হওয়া কিংবা মিলনের জন্য ভিন্ন একটি মাকড়সাকে খুঁজে নেয়া। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, আরগিওপ ব্রুয়েন্নিচি মাকড়সার যৌন মিলন কৌশল মোটেও এলোমেলো নয়, বরং সৃশৃঙ্খল। স্ত্রী মাকড়সাটি কুমারী, না ইতোমধ্যে অন্যের সঙ্গে মিলিত হয়েছে, তার বয়স, ওজন, অন্য স্ত্রী মাকড়সার প্রাপ্যতা এবং দিনের তখন কোন সময় এসব অবস্থার ভিত্তিতে পুুরুষ মাকড়সারা মিলনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। দেখা গেছে, বয়স যাই হোক না কেন সবচেয়ে বেশি ওজনের স্ত্রী মাকড়সারই গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

আরও দেখা গেছে একই স্ত্রী মাকড়সার সঙ্গে পুরুষ মাকড়সার দু’বার মিলিত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে যদি সময়টা দিবসের প্রথম দিকে হয়, যদি স্ত্রী মাকড়সাটি ভারি শরীরের হয় এবং যদি নিকটতম অন্যান্য স্ত্রী মাকড়সার বয়োপ্রাপ্তি না হয়ে থাকে। পুরুষরা দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্ধান করে চলে যদি সময়টা দিনের শেষভাগ হয় এবং প্রথম স্ত্রীটি ওজনে হাল্কা হয়ে থাকে। আরও লক্ষ্য করা গেছে যে, পুরুষরা দ্বিতীয় সঙ্গিনী হিসাবে ভারি ওজনের স্ত্রী মাকড়সার সঙ্গে জুটি বাঁধতেই বেশি পছন্দ করে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ একগামী পুরুষ মাকড়সাকে প্রথম দফা মিলনের পর স্ত্রী মাকড়সারা খেয়ে ফেলে। এই শ্রেণীর পুরুষের একটা প্রবণতাই থাকে সবচেয়ে বয়স্ক ও ভারি ওজনের স্ত্রী মাকড়সার সঙ্গে মিলিত হওয়া।

জাবির লেকে আসছে শীতের অতিথি পাখি

Wednesday, November 7th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: প্রাকৃতিক সৌন্দর্র্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। শীত আসতে না আসতেই প্রতিবছরের মতো এবারো শীতের অতিথি পাখিরা আসতে শুরু করেছে।

অতিথি পাখির আগমনে ক্যাম্পাসের পদ্মে শোভিত লেকগুলোর সৌন্দর্য বর্ধিত হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ আর নিরাপদ আশ্রয়ে এসব অতিথি পাখি নির্ভাবনায় মেতে ওঠেছে খোশ গল্প আর জলকেলীতে। কেউ আবার ডুব সাঁতারে ব্যস্ত। লেকের কোথাও তারা জুটিবদ্ধভাবে নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। কখনো তারা চক্রাকারে উড়ে বেড়াচ্ছে ক্যাম্পাসের মুক্ত আকাশ জুড়ে। এসব অতিথি পাখির কলকাকলি আর কিচিরমিচির শব্দে ক্যাম্পাসে মধুময় সুরের আবহ বিরাজ করছে। এখন ক্যাম্পাসবাসীর ঘুম ভাঙে অতিথি পাখির কলকাকলিতে। আবার সারাদিন কর্মব্যস্ততা শেষে অতিথি পাখির মধুময় সুরে ঘুমিয়ে পড়েন তারা।

এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট-বড় ১৬ থেকে ১৭টি লেক থাকলেও মাত্র দুটি লেককে পাখিদের জন্য অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। এবার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষ ও পুকুর সংস্করণ না করায় এবং সঠিক সময় লাল শাপলা প্রতিস্থাপন করায় পাখিদের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। লাল সীরামিকের সুদৃশ্য অট্টালিকা আর সবুজাভ প্রকৃতির টানে বছর জুড়ে ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের সমাগম থাকলেও বর্তমানে তাদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

প্রতিদিন সকাল ও বিকালে দর্শানার্থীদের ভিড় জমে অতিথি পাখির কিচির মিচির শব্দ শোনার জন্য। প্রতিবছর উত্তরের শীত প্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে।

আবার মার্চের শেষদিকে তারা আপন ঠিকানায় ফিরে যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর ২৪৪ প্রজাতির অতিথি পাখির মধ্যে ক্যাম্পাসে সাধারণত ১২ থেকে ১৩ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। এদের বেশির ভাগই হাঁস জাতীয় ও পানিতে বসবাস করে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পাখি আসে তার মধ্যে বেশির ভাগই  হাঁস জাতীয়। এরমধ্যে সরালি, খঞ্জনা, পাতারিহাঁস, পাতিতারা, নোনাজোৎসা, গয়ার, ধুপানি, লালমুড়ি, বামুনিয়া হাঁস, সি›ধু ঈগল, বাড়িঘোরা, হুড হুড ইত্যাদি প্রধান।

এ অতিথি পাখিদের নিরাপত্তার জন্য নেয়া হয় নি কোনো ব্যবস্থা। যে দুটি লেককে অভয়ারণ্য করা হয়েছে তার নেই কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনি। দর্শনার্থীদের দেখার বা বসার নেই কোনো সুনির্দিষ্ট স্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অনেক বছর আগে যতটুকু করে দিয়েছে তা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের উদাসিনতা ও উপযুক্ত পদক্ষেপের অভাবে এ অতিথি পাখি আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি অতিথি পাখিদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

 

ফোন : +৮৮ ০২ ৯৬১ ৩৯৪২-৩, ফ্যাক্স : +৮৮ ০২ ৮৬৫ ৩৪৬৫, মোবাইল : +৮৮ ০১৭১১ ৫২৯৯২৩, +৮৮ ০১৯২১ ০৭৬৪২৯, + ৮৮ ০১৯২৩ ৩৬৮২৯১ ।
 ইমেইল : 
newsbnn@gmail.com , editor@newsbnn.com, info@newsbnn.com,  ওয়েব : www.newsbnn.com

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো:মাহাবুবুর রহমান