Archive for the ‘পরিবেশ’ Category

তীব্র খরার গ্রাসে ব্রাজিল,১৯ মাসেও বৃষ্টির মুখ দেখননি তারা

Thursday, January 10th, 2013

bjনিউজবিএনএন ডেস্ক: প্রায় ৫০ বছরে এ রকম খরা দেখেননি ব্রাজিলীয়ানরা। গত ১৯ মাসে এক ফোঁটা বৃষ্টিরও মুখ দেখননি তারা। কয়েক মাস আগের সবুজ চারণভূমি এখন ধুলাভরা মাঠ।

তারই মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে বিভিন্ন গবাদিপশুর মৃতদেহ। আকাশে ঘুরছে চিল, ঈগল। পচা মাংসের গন্ধ ভারী করে তুলেছে হাওয়া। তার মধ্যে বসেই চোখের জল ফেলছেন ব্রাজিলের সাধারণ মানুষ। এটা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং চরম এবং নগ্ন বাস্তবতা। তীব্র খরার প্রভাবে এমনই অবস্থা উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেরিতা শহর।

এই শহরের প্রায় তিন হাজার পরিবার বেঁচে থাকে পশু পালনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এখন চোখের সামনে পালিত পশুগুলোরই মৃত্যু দেখতে হচ্ছে তাদের। কিছু পরিবার তাদের বেশ কিছু গবাদিপশু বেচে দিতে বাধ্য হয়েছে, যাতে সেই অর্থে বাকিদের জন্য খাবার কেনা যায়। যাদের পালিত পশুরা এই ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে অভ্যস্ত নয়, তাদের শেষ ভরসা ক্যাকটাস। এ অঞ্চলে সবুজ বলতে এখনো জন্মাচ্ছে এক ধরনের ক্যাকটাস। পশুপালকের দল সেই ক্যাকটাসের কাঁটা পুড়িয়ে ফেলে খাওয়াচ্ছেন পোষ্যদের। কিন্তু এই ক্যাকটাসও শেষের পথে। এর পর কী হবে তা ভেবেই আতঙ্কিত তারা।

শহরের সবচেয়ে বড় জলাধার, যেখান থেকে প্রতিটি পরিবার পানি পায়, তা এখন ফাঁকা। শহরের কৃষি আধিকারিকের মতে, খাবার আগে সেখানে গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ হাজার। কিন্তু এই দেড় বছরের মধ্যেই সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ১৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ফলস্বরূপ দুধ উৎপাদন কমে গেছে প্রায় ৬০ ভাগ। খরার কারণে খাদশস্যের দাম হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। যে উৎপাদকরা তাদের পালিত পশু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, তারা দাম পাচ্ছেন স্বাভাবিক বাজার দরের তুলনায় বেশ কম।

খরাবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রায় আট হাজার লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি পানির ট্যাঙ্ক শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানীয়জল সরবরাহ করছে। কিন্তু এ সবই তাৎক্ষণিক সমাধান। অনাবৃষ্টি যদি আরও এক বছর চলতে থাকে, তবে এই অঞ্চলের অবস্থা কী হতে পারে, তা ভেবেই আতঙ্কিত শহরবাসী। সে ক্ষেত্রে এই শহর যে মৃতের শহরে পরিণত হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত সবাই। যে ক্ষতি এর মধ্যেই হয়ে গেছে তা কাটিয়ে উঠে কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে তা জানে না ব্রাজিলবাসী।

শৈত্যপ্রবাহের কবলে সারা দেশ

Wednesday, January 9th, 2013

lনিউজ বিএনএন ডটকম: সারা দেশে আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে। হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কৃষি পূর্বাভাস শাখা বলেছে, এই অবস্থা বোরোর বীজতলা ও মাঠে থাকা আলুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে কৃষকদের সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃহস্পতিবারের পূর্বাভাসে বলেছে, আজও দেশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। অনেক এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। আগামী দুই-তিন দিন টানা এই শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে এ ধরনের আরও দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর আগে গত মাসে একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঈশ্বরদীতে ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বেশির ভাগ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কৃষি পূর্বাভাস শাখার আবহাওয়াবিদ শামীম হাসান ভূঁইয়া বলেন, কৃষকদের সাবধানতা হিসেবে বোরোর চারাকে শীতজনিত ক্ষতি (কোল্ড ইনজুরি) থেকে রক্ষা করতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির জোগান রয়েছে, সেখানে ওই পানি বিকেলে বীজতলায় দিয়ে তা আবার সন্ধ্যায় সরিয়ে ফেলতে হবে। এতে তীব্র শীতেও বীজতলার তেমন ক্ষতি হবে না। আলুগাছের শীতজনিত কাণ্ডপচা রোগ সামলাতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে ছত্রাকনাশক ওষুধ ছিটানোর পরামর্শ দেন তিনি।

সেন্ট মার্টিন সৈকতেও ভেসে আসছে মৃত মা-কচ্ছপ

Tuesday, January 8th, 2013

gfgনিউজ বিএনএন ডটকম: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন সৈকতেও ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত মা-কচ্ছপ। গভীর সাগরে মাছ ধরার ট্রলিং জাহাজের জালে আটকা পড়ে মা-কচ্ছপের মৃত্যু হচ্ছে। গত এক মাসে দ্বীপের সৈকতে শতাধিক কচ্ছপের মৃতদেহ ভেসে আসে বলে স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন।
সোমবার সকালে সৈকতের পশ্চিম পাশে গিয়ে দেখা গেছে, তিনটি কচ্ছপ জোয়ারের পানিতে ভাসছে। একেকটির ওজন এক মণ হবে। একটু পরে কচ্ছপগুলো সৈকতে ভিড়লে কুকুরের দল টানাটানি শুরু করে।

সৈকতের দক্ষিণ অংশ ঘুরে আরও দুটি কচ্ছপের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেল। আগের দিন রোববার দুপুরে সৈকতের উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব পাশ ঘুরে আরও পাঁচটি কচ্ছপের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সব কচ্ছপের শরীরে আঘাতের চিহ্ন। ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে কচ্ছপগুলোকে মারা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিন ১৫ আগে সোনাদিয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজার সৈকতেও এমন মৃত কচ্ছপ ভেসে আসতে দেখা গেছে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বোট মালিক সমিতির সদস্য সৈয়দ আলম বলেন, আগে সন্ধ্যার পর সৈকতে অসংখ্য কচ্ছপ ডিম পাড়তে উঠত। বালুচরে গর্ত খুঁড়ে ৫০ থেকে ১০০টি ডিম দিয়ে মা-কচ্ছপ সাগরে নেমে যেত। দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এসব দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতো। আর এখন এই দৃশ্য খুব একটা নজরে পড়ে না। কারণ, সন্ধ্যার পর পুরো সৈকত থাকে আলোকিত। তা ছাড়া সৈকতজুড়ে হাজার হাজার মানুষের হইচইয়ের মধ্যে কচ্ছপ ডিম পাড়ার পরিবেশ হারিয়ে ফেলে। নির্জন সৈকতে কিছু কচ্ছপ ডিম দিলেও তা কুকুরের দল খেয়ে ফেলে।

ভ্রমণে আসা মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ বলেন, ‘এত সুন্দর একটি দ্বীপে কচ্ছপ নিরাপদে ডিম পাড়তে পারছে না ভাবতে অবাক লাগছে। সৈকত ঘুরে কয়েকটি মা-কচ্ছপের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখলাম। মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লেও এসব সরানোর যেন কেউ নেই।’

উত্তরপাড়া মাছ ব্যবসায়ী জমির আহমদ বলেন, গত ডিসেম্বরে সৈকতের কয়েক কিলোমিটারে শতাধিক কচ্ছপের মৃতদেহ ভেসে আসে। এখনো মরা কচ্ছপ ভেসে আসছে। গভীর সাগরে ট্রলিং জালে আটকা পড়ে এসব কচ্ছপের মৃত্যু হচ্ছে। দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় লোকজন মৃত কচ্ছপগুলো বালুচরে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলে।
ভ্রমণে আসা পরিবেশবাদী সংগঠন ‘কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলন’-এর সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ১৩ দশমিক ৩৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট এই দ্বীপের বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় সাত হাজার। তার ওপর প্রতিদিন দ্বীপ ভ্রমণে আসছে পাঁচ থেকে ১৫ হাজার পর্যটক। কিন্তু দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার যেন কেউ নেই। দ্বীপের চারদিকে পুঁতে রাখা নিষিদ্ধ জালে আটকা পড়ে গভীর সাগর থেকে ডিম পাড়তে আসা অসংখ্য মা-কচ্ছপ মারা যাচ্ছে। এসব নিয়ে ভাবার যেন কেউ নেই।

জানতে চাইলে সেন্ট মার্টিন ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, সৈকতে কচ্ছপের মৃতদেহ ভেসে আসছে ঠিক। কিন্তু এসব কচ্ছপ মারা যাচ্ছে গভীর সাগরে ট্রলিং জালে আটকা পড়ে। জোয়ারের পানিতে এসব মৃতদেহ সৈকতে ভেসে এলে সঙ্গে সঙ্গে পুঁতে ফেলা হচ্ছে।

লালমনিরহাটে আবারও শৈত্ব প্রবাহ শুরু: তাপমাত্রা ৭ডিগ্রী সেলসিয়াস, মৃত্যু ১

Monday, January 7th, 2013

shitনিউজ বিএনএন ডটকম(লালমনিরহাট প্রতিনিধি):৩০ডিসেম্বরের পর তাপমাত্রা একটু বৃদ্ধি পেলেও আজ থেকে আবারও তাপমাত্রা কমে ৭ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে এসেছে।

শীত জনিত কারনে  জেলার কিিকনা ইউণিয়নের রুদ্দেশ্বও গ্রামের রশিদা(৪৮) মারা গেছে বলে এলাকাবাসী জানায়। এ নিয়ে শীত জনিত কারনে ১৫জনের মুত্যু হয়েছে এ অঞ্চলে।

শৈত্ব প্রবাহ ঘনকুয়াসাও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত।লালমনিরহাট সহ এ অঞ্চলের মানুষ কাহিল হয়ে পড়েছে তীব্র শৈত্ব প্রবাহে।শীত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ধনী দরিদ্র কেউই ।

গরম কাপরের দাম সকলেই বাড়িয়ে  দেয়ায় ক্রয় ক্ষমতার বাইওে গেছে।ছন্দপতন ঘটেছে জনজীবনে।প্রানীকুল ও শীতের ধকল সামলাতে হিমশীম খাচ্ছে। কাকা রব শুরু করেছে তারা।বীজ তলা ফ্যাকাশে বিবর্ন হয়ে গেছে।হিমেল হাওয়ায় ধরধর কওে কাপছে মানুষ। সয়্যেও মুখ দেখা যাচ্ছে না।এদিকে শহওে লোক মারা যাওয়ার মাইকিং শোনা যাচ্চে।পৌস মাসে শীতের তীব্রতা এমনিতে বেড়ে যায় প্রতি বছর। এবারে আবহাওয়ার বিবুপ প্রতিক্রিয়ায় আরো শীত চরম ভাবে বেড়ে গেছে।

পর্যটনের ভরমৌসুমেও জমছে না পর্যটন শহর কক্সবাজার

Sunday, January 6th, 2013

kbনিউজ বিএনএন ডটকম: পর্যটনের ভরমৌসুমেও জমছে না পর্যটন শহর কক্সবাজার। হোটেল ব্যবসাসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মাসের পর মাস ধরে লোকসান গুনছেন। এ সঙ্কট থেকে উত্তরণে কক্সবাজারের হোটেল মালিকরা ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন।

এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সোমবার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ঢাকা থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো কক্সবাজার শহরের হলিডে মোড় পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা নিদারুণ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন। আইনশৃঙ্খলা কমিটির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতিও দিয়েছেন কক্সবাজার শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুলসহ কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ সমাজসেবা কমিটি। কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, পর্যটন মৌসুমের প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও আশানুরূপ পর্যটক আসছেন না কক্সবাজারে। এমনকি পর্যটনের এখন ভরমৌসুম চললেও সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই প্রায় খালি পড়ে থাকছে হোটেলগুলো।

তিনি বলেন, ‘পর্যটক না থাকায় হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা দিনের পর দিন লোকসান গুণে যাচ্ছেন। এমনকি কর্মচারীর বেতন এবং বিদ্যুত্ বিল দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন হোটেল মালিকরা।’ তার মতে, এ অবস্থায় ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কক্সবাজারের হোটেল মালিকরা। ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সিকদার জানান, পর্যটন শিল্পের স্বার্থেই এ দাবি তোলা হয়েছে। ওই দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসককে দেয়া স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ীরা যে দাবি তুলেছেন তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলোকে আগের মতো শহরের হলিডের মোড় পর্যন্ত যাত্রী পৌঁছানোর সুযোগ দান এবং ফিরতি পথে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বাসে ওঠার সুযোগ প্রদান, কমিউনিটি পুলিশিং পুনর্বহাল, মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ, পর্যটন এলাকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে শহরের পাহাড়ের অংশে ও বস্তিতে পুলিশি অভিযান বৃদ্ধিকরণ, কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন ও গ্যাসলাইন সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত সড়ক পথ চার লেনে উন্নীতকরণ, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কে বিআরটিসি বাস বৃদ্ধিকরণ, দক্ষ পর্যটন কর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে পর্যটন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ ও কর্মশালা পরিচালনাকরণ, পৌরসভা কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পর্যটকসেবি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিকে আগের মতো আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ অন্যান্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্তকরণ।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সোলতান জানান, গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। এখন চলছে পর্যটনের ভর মৌসুম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হোটেল, মোটেলের হাজার হাজার কক্ষ খালি পড়ে আছে। তিনি জানান, পর্যটন মৌসুমের প্রায় অর্ধেক সময় চলে গেলেও কক্সবাজারে পর্যটক শূন্যতা বিরাজ করছে। গত ৭ মাসে শহরের হোটেল, মোটেলগুলোর সামর্থ্যের ৫ ভাগ কক্ষও ব্যবহৃত হয়নি।

সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী পাচারকারীচক্র সক্রিয়: বাঘের হাড় ও দাঁত পাচার চলছে

Friday, January 4th, 2013

bagএম শিমুল খান: গত বছরের ৬ নভেম্বর মংলার ঢাংমারিতে পরিকল্পিতভাবে একটি বাঘ হত্যা করা হয়। এরপর বাঘের চারটি বড় দাঁত (ক্যানাইন) চার লাখ টাকায় বিক্রির চেষ্টা করে পাচারকারীরা।

এ অবস্থায় র‌্যাব ৩টি দাঁতসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। ১৫ ডিসেম্বর পশ্চিম সুন্দরবনের জয় খালিতে উদ্ধার হওয়া মৃত বাঘটির মাথা ও চার পা আগেই কেটে নেওয়া হয়। কৌশলে বাঘ হত্যা করে এভাবে হাড় ও দাঁত পাচারে জড়িত রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী হত্যা ও তার বিভিন্ন অঙ্গ পাচারের এ ধরনের আশংকা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং বন বিভাগের কর্মকর্তারাই। তারা দেশের এই অমূল্য সম্পদকে রক্ষার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সূত্র অনুযায়ী, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাগেরহাটের শরনখোলা থেকে পাচারের সময় ৪টি বাঘের মাথা, ৩টি চামড়া ও ৩২ কেজি হাড় উদ্ধার হয়। ২০০৯ সালের ২৬ আগষ্ট খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা থেকে র‌্যাব বাঘের চামড়াসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এছাড়া ৯ ও ৩১ ডিসেম্বর মংলার ঢাংমারী থেকে বাঘের তিনটি দাঁতসহ দুইজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনা বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৬ বছরে সুন্দরবন ও আশেপাশের এলাকায় ৫২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি বাঘকে পিটিয়ে ও ১৭ টি বাঘকে চোরা শিকারীরা কৌশলে হত্যা করেছে। বাকী ১১টি বাঘের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগ খুলনার বিভাগীয় কর্মকর্তা আবু নাছের মো:  ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, কিছুদিন আগেও ধারণা করা হতো বাঘ হত্যা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা। কিন্তু দাকোপের ঢাংমারীতে বাঘটিকে হত্যার পর তার দাঁত নিয়ে যাওয়ায় ও পশ্চিম সুন্দরবনের জয় খালীতে বাঘের মাথা ও পা কেটে নিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর বাঘের দাঁতসহ দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি বলেন, চীন, মায়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে বাঘের চামড়া, হাড় ও দাঁতের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। একই সাথে পাচারকারীরা হরিণ, গুইসাপ, তক্ষক ও কুমিরের চামড়া, হাড় ও দাঁত পাচার করছে। জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ষ্ট্রেন ট্রেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন প্রকল্প এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষন ও ইকোটুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বন্যপ্রানী সংরক্ষন ও পাচার রোধে ২০০১ সাল থেকে এ অঞ্চলে বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত দু’বছরে এই বিভাগ ১১৪৫টি কচ্ছপ, ১১টি হনুমান, ৩টি মেছোবাঘ, ৪টি অজগর সাপ, ১টি গন্ধ গকুল ও বাঘের দাঁত উদ্ধার করেছে। সম্প্রতি খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে সুন্দরবন সহব্যবস্থাপনা কমিটি ও ডিএফওদের ত্রৈমাসিক সভায় বন্যপ্রাণী পাচারের ক্ষেত্রে বনের ভিতরে পরিবহন ইঞ্জিন বোটের চলাচল বন্ধের সুপারিশ করা হয়।

খুলনা জেলার দাকোপ-কয়রা সিএমসি’র সভাপতি এস এম শফিকুল ইসলাম বলেছেন, মাছ ধরার পারমিট নিয়ে এই বোটগুলো বনের ভিতরে প্রবেশ করে। যথাযথ তল্লাশীর অভাবে এই বোট গুলোতে করেই বন্যপ্রাণী পাচার হয়ে থাকে। এছাড়া রামপাল ও মংলা নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে সিমেন্ট, ক্লিংকার ও সারবাহি কার্গোগুলো এখন সুন্দরবনের নন্দবালা, চাঁদপাই, দুধমুখি, বগি, বরিশাল রুট ব্যবহার করছে। এই কার্গোগুলোও বন্যপ্রাণী চোরাচালানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বন সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। তারা সুন্দরবন সংরক্ষনে বনের মধ্যে পরিবহন বোট ও কার্গো প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকাড়ি আরোপ ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ঘন কুয়াশা-হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে রংপুরের মানুষ

Wednesday, January 2nd, 2013

yhশরিফুজ্জামান রিপন, রংপুর : রংপুরে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে মানুষ। শীতবস্ত্র বেচাকেনার দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

সন্ধ্যার পরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় চারিদিক। সকাল হয় অনেক দেরীতে। একটু ঊষ্ণতার প্রত্যাশায় শীতের কাপড়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে মানুষ। দারিদ্রের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে থাকা গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, মিঠিাপুকুর, পীরগঞ্জ,বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জের মানুষ জনের পক্ষে অগ্রীম জেঁকে বসা শীত মোকাবেলা করা অনেকটা কষ্টকর।

অনেকেই ভাবছেন স্বযত্নে রাখা গত বছরের ক্রয়কৃত শীতের কাপড় দিয়ে এ মৌসুম পাড়ি দেওয়ার। তেমনি একজন হোসেনআলী (৫৫) বলেন, গতবার ১৫০ টাকা দিয়ে একখানা কম্বল কিনছিলাম। এবারে সেটাই চালাবো। নতুন কেনার টাকা নাই। মানুষের জীবনযাত্রা থেমে নেই।

শীতকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে শীত বস্ত্র বেচাকেনার বাজার। রংপুর মহানগীরর অলিগলিতে বসা ভ্রাম্যমান দোকান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সারাদিনে চলে শীত বস্ত্র বেচাকেনা। লোকের ভীড়ে অনেক রাত পর্যন্ত সরগরম থাকে দোকান গুলো। সুযোগ বুঝে নগরীর অলিগলিতে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমান দোকান মালিকরা কিনে আনছে বিদেশ থেকে আগত পুরনো কাপড়ের ঢোপ। সেখান থেকে বেচে বেচে ক্রেতা সাধারণ ক্রয় করছে সাধ্যমত ও পছন্দের ভাল ভাল পোষাক। এ গুলোর মধ্যে সোয়েটার, জাম্পার ও জ্যাকেট অন্যতম। নতুন অবস্থায় এ গুলোর দাম আকাশ চুম্বি। যা কেনা সল্প আয়ের মানুষের কাছে স্বপ্নসম।

স্বপ্নীল সেই কাপড় গুলো খুব সহজে ক্রয় করতে পেরে তারা তৃপ্ত। সময়ের দাবী মেটাতে কেউ কেউ ব্যতিক্রমী পোষাকের সম্ভারে পসরা সাজিয়েছে। রংপুরসহ উপজেলাগুলোতে গড়ে উঠেছে তেমনি কয়েকশটি ভ্রাম্যমান দোকান। তাদের মধ্যে মিঠাপুকুর কলেজ মোড়ের সিরাজুল ইসলাম (৪২) জানালেন, বছরের পুরো সময় তিনি অন্য ব্যবসা করেন। শীত এলে তিনি বিক্রি করেন শীতের পোষাক। ক্রেতাদের উপস্থিতি বিবেচনায় সোয়েটার, জ্যাকেট ও জাম্পার।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাখো পর্যটকের সমাগম

Sunday, December 30th, 2012

Cox'sbazarনিউজ বিএনএন ডটকম: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে গত বছর পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছিল। এবার অন্তত দুই লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। রাতের বিনোদনসেবা বাড়ানো গেলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়ত। কক্সবাজারে সমুদ্র দেখে সময় কাটানো ছাড়া আর তেমন কিছু করার নেই।’

পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের ব্যাপারে এসব কথা বলেন জেলার ঝাউতলায় পর্যটকদের বিনোদনসেবায় নিয়োজিত পর্যটন-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘টুয়াক’ নেতা এবং বে অব বেঙ্গল গ্রুপের পরিচালক তোফায়েল আহমদ। দেশের মানুষ কক্সবাজারে ছুটে যাচ্ছে। কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের চার শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও বাংলোর কোনো কক্ষ খালি নেই। ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সব কক্ষই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

পর্যটকদের বিনোদনসেবা দিতে তারকামানের হোটেল ওসান প্যারাডাইস, সীগাল, লং-বিচ, কক্স-টু ডে, প্রসাদ প্যারাডাইস, সী-প্যালেসসহ কয়েকটি হোটেলে দেশি-বিদেশি তারকাদের নিয়ে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বছরের শেষ দিন সন্ধ্যা থেকে সৈকতের বালুচরে একাধিক বেসরকারি টেলিভিশেন চ্যানেল বিচ লাইফ কনসার্টের আয়োজন করবে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বর্তমানে শহরের বিভিন্ন হোটেল ও মোটেলে ৬০ হাজারের মতো পর্যটক আছেন। আরও লক্ষাধিক আসবেন।

সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নেমেছে সমুদ্রসৈকতে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে যাওয়া ব্যবসায়ী অনিল বড়ুয়া (৪৫) জানালেন, ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে এই সৈকতে দাঁড়িয়ে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানাবেন। পরের দিন পাশের হিলটপ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে নতুন বছরের সূর্য দেখে বিকেলে বাড়ি ফিরে যাবেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. আজাদ মিয়া নিরাপত্তার প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেছেন, থার্টিফার্স্ব নাইট উদযাপনসহ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশসহ একাধিক বাহিনী সক্রিয় থাকবে। সৈকতসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। মাদকের ব্যবহার কমাতে হোটেল-মোটেল জোনসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে যানবাহন ও ব্যাগ তল্লাশি করা হবে।

পর্যটকদের তীর্থস্থান হতে পারে মীরসরাইয়ের বাওয়াছড়া

Thursday, December 27th, 2012

hyuইলিয়াছ রিপন, মীরসরাই: দূর থেকে শোনা যায় ঝর্ণার পানির নুপুর ধ্বনি, পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহ অতিথি পাখিদের কলতান কার না মন জুড়ায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কেউ মুগ্ধ হবেন বাওয়াছড়া দেখে।

সে যেন সৌন্দর্য্যরে অপরূপ লীলাভূমি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ের ছোট কমলদহ বাজার থেকে দেড় কিলোমিটর পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে এ স্পটের অবস্থান। নীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের সমারোহ।

এ যেন প্রকৃতির লীলা খেলা। দু’পাশে থাকা বনাঞ্চলের দিকে তাকালে হয়তো সহজেই দেখা যাবে অনেক জীব বৈচিত্র। দেখা যাবে শেষ বিকেলের সূর্যের আলো যখন লেকে পড়ে তখন দূর থেকে মনে হয় পুরো প্রকল্পটি যে একটি পর্যটন কেন্দ্র। এলাকাবাসী জানান, সরকার একটু নজর দিলেই এটি হবে চট্টগ্রামের মধ্যে অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। মনোমুগ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দ্রর্যের চাদরে ঢাকা প্রকল্পটিতে ঝর্ণার পানি আছড়ে পড়ছে।

চিকচিক বালিতে যেন সকালের মিষ্টিরোদ আলো ছড়ায় আর অস্তগামী সূর্যের লালিমাখা অনন্ত ছায়া যেন ঢেলে দেয় দিগন্ত জুড়ে। অপরূপ বাওয়াছড়া স্বর্ণালী স্বপ্নের মতোই বর্ণালী শোভা ঘেরা সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটন। এখানে এলেই বাওয়াছড়ায় মনমোহনীরূপ তাদের আকৃষ্ট করবেই।

সীতাকুন্ডের কুমিরা থেকে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনহাজুল করিম বলেন, এখানে আমি প্রথম এসেছি। এত চমৎকার দৃশ্য সবারই মন জুড়াবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বেই প্রকল্পের অবস্থান। পথিমধ্যে বিশাল অজগরের ন্যায় রেল লাইন পার হলেও শুরু বাওয়াছড়ার মায়ার পরশ। চার পাশে সবুজ ছায়ায় ঘেরা অপরূপ দৃশ্য চোখে পড়বেই।

জানা গেছে, গত জোট সরকারের আমলে ক্ষুদ্র পানি সেচ প্রকল্পের আওতায় উপজেলাভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্বান্ত নিলে উপজেলার ১৫নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সালাহ্ উদ্দিন সেলিম এ প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। পরে সরকারী-বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন এবং এলাকার লোকজনের মতামত নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন।

নেদারল্যান্ড সরকার আর্থিকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতা করে। শুধু তাই নয় এই প্রকল্প সুষ্ঠভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে প্রকল্পের লেকে সংরক্ষণ করা পানি দ্বারা এই এলাকার প্রায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন মৌসুমে ফসলাদি চাষ করা হচ্ছে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দরিদ্র কৃষক সাবলম্বী হয়েছে। বিশেষ করে ইরি, বরো, আউশ, আমন, বিভিন্ন জাতের শাক, টমাটো, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, আলু, কপি, সীম, বরবটি, ঢেড়শ, ধুন্দুলসহ সব ধরণের রবি শস্য উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রকল্প সম্পর্কে ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিম জানান, ১৯৩৪-৩৫ সালে এই প্রকল্পটি চালু ছিল। কিন্তু পাকিস্তান সরকার আসার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭২ সালে প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ গত জোট সরকারের আমলে আমি এ প্রকল্পের প্রস্তাব দিলে এলজিইডি’র লোকজন এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় এবং ইতিমধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ হয়েছে।

বাওয়াছড়া প্রকল্পটি রক্ষনাবেক্ষনের জন্য বাওয়াছড়া পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতি (পাবসস) গঠন করা হয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। সমিতির সভাপতি শাখাওয়াত হেসেন জানান, সমিতি থেকে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষুদ্র ্রিন দেয়া হচ্ছে। এ এাড়া প্রকল্পের লেকে মাছ চাষ করা হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে  বাওয়াছড়া প্রকল্পের অবকাঠামো ও প্রকল্প পর্যন্ত যাওয়ার সড়ক নির্মাণের দাবী জানান।

মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মজিবুল হক, শাহাব উদ্দিন, জহুরুল হক, বিকাশ ভৌমিক বলেন, যে ছরাকে ঘিরে (খাল) বাওয়াছাড়া প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে সেই ছরা ঘেষেঁই হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়ক। প্রতিবিছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে সড়কটি ভেঙ্গে মানুষের চলাচলের চরম ভোগান্তি পৌহাতে হয়। তারা সড়কটি কার্পেটিংয়ের জোর দাবী জানান।

মীরসরাইয়ের বর্তমান সাংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ২০০৯ সালের ৬ নভেম্বর প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকল্পকে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত ফয়্সলেকের আদলে গড়ে তোলার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এর কিছু হয়নি বলে জানান এলাকাবাসী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন বাওয়াছড়া প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

দক্ষিনউপকুলে ৩ হাজার গাছের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হচ্ছে!

Wednesday, December 26th, 2012

নিউজ বিএনএন ডটকম: ভোলার লালমোহন-হরিগঞ্জ ৪ কি.মি সড়কের প্রায় ২ হাজার গাছের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। নতুন বনায়ন ছাড়াই বিশাল এই এলাকায় গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে।

এতদিন ধরে এ গাছগুলো রাস্তার যে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছিল তাও নষ্ট হয়ে গেছে। বন বিভাগের সাথে যোগশাযোগের মাধ্যমে স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলর ১ হাজার ৪শ’ গাছের নিলাম কিনে কেটে নিচ্ছে প্রায় ২ হাজার গাছ।

অভিযোগ রয়েছে বাজার দামের চেয়ে অনেক কম দামে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। নুতন বনায়ন ছাড়াই মেঘনা নদীর তীরবর্তি এলাকায় এই বিপুল সংখ্যক গাছ কেটে ফেলাকে পরিবেশের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ থাকায় সুবিধাভোগীদের নায়্য পাওনা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গাছগুলো কাটার কারনে এ সড়কে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ওই রুটের যাত্রীরা।

উপজেলা বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪-১৯৯৫ সালের অর্থ বছরে বন বিভাগের পরিচালনায় স্থানীয় ২৪ জন উপকারভোগী হরিগঞ্জ বাজার থেকে-হারুন কোম্পানীর বাড়ি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কে গাছ রোপন করা হয়। গাছগুলো হলো রেন্ট্রি, মেহেগিনী, আকাশমনি, বাবলা, শিশু ইত্যাদি।

২০১২ সালের জুলাই মাসে ওইগাছ গুলোর মেয়াদশেষ দেখিয়ে  ভোলা উপকূলীয় বন বিভাগ ৪ কিলোরমিটার সড়কের ১৫ গ্রুপে টেন্ডার আহবায়ন করে। বন বিভাগের সাথে যোগশাযোগের মাধ্যমে লালমোহন পৌরসভার কাউন্সিলর সাইফুল কবীর ও স্থানীয় জনৈক বেল্লাল হোসেন ১৫ গ্রুপের গাছকাটার  কাজ হাতিয়ে নেন।  কাউন্সিলর সাইফুল কবীর ১১ গ্রুপের ১ হাজার ৯ টি গাছ ১১ লাখ ৪৮ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অপর ৪ গ্রুপের বেল্লাল হোসেন ৩৮৬টি গাছ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। এসব অর্থ শতকরা ৫৫% উপকারভোগী, ২০% সড়ক ও জনপথ, ৫% ইউনিয়ন পরিষদ, ১০% বন বিভাগ, ২০% দিয়ে নতুন করে বাগন তৈরি করা হবে। সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে গাছগুলো তড়িগড়ি করে কেটে নেওয়ার ধুম চলছে। রাস্তার দুই পাশের কাটা গাছের গুড়ির স্তুপ পড়ে আছে।

ট্রাক- ট্রলি বোঝাই করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ঠিকাদার ও কাউন্সিলর সাইফুল কবীর বলেন, বন বিভাগ টেন্ডার আহবান করলে তিনি অশংগ্রহন নিয়মানুযায়ী টেন্ডার পেয়েছেন।

এলাকাবসী কামরুল হাসান নুস,আবুল কালাম বলেন, গাছ কাটায় সড়কে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আংশকা করা হচ্ছে। এদিকে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।

বনায়ন উপকারভোগী কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ১৩/১৫ বছর আগে এ সড়কে গাছ রোপন করা হয়েছে। সংগঠনের ২৪ জন সদস্য গাছ রোপন থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত কাজ করেছে। গাছ বিক্রর অর্থ পকারভোগীদের মাঝে বন্টন করার কথা রয়েছে।

ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু বলেন, গাছ কাটায় একদিকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আবার পূনরায় গাছ রোপন করতে হবে। গাছ কাটায় সড়কের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

লালমোহন উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী আলাউদ্দিন বলেন,লালমোহন-মঙ্গলশিকদার সড়কের ৪ কিলোমিটার সড়কের গাছ মেদায় উত্তীন হওয়ার টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মাপিক গাছগুলো কাটছে। কাঠ বিক্রয় টাকা উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। ওইসব রাস্তায় পূনরায় গাছ রোপন করা হবে।

 

ফোন : +৮৮ ০২ ৯৬১ ৩৯৪২-৩, ফ্যাক্স : +৮৮ ০২ ৮৬৫ ৩৪৬৫, মোবাইল : +৮৮ ০১৭১১ ৫২৯৯২৩, +৮৮ ০১৯২১ ০৭৬৪২৯, + ৮৮ ০১৯২৩ ৩৬৮২৯১ ।
 ইমেইল : 
newsbnn@gmail.com , editor@newsbnn.com, info@newsbnn.com,  ওয়েব : www.newsbnn.com

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো:মাহাবুবুর রহমান