নিউজ বিএনএন ডটকম: প্রাকৃতিক সৌন্দর্র্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবুজ ক্যাম্পাস এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। শীত আসতে না আসতেই প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের অতিথি পাখিরা আসতে শুরু করেছে। অতিথি পাখির আগমনে ক্যাম্পাসের পদ্মে শোভিত লেকগুলোর সৌন্দর্য অতিমাত্রায় বর্ধিত হয়েছে।
উপযুক্ত পরিবেশ আর নিরাপদ আশ্রয়ে এসব অতিথি পাখি নির্ভাবনায় মেতে উঠেছে জলকেলীতে। কেউ আবার ডুব সাঁতারে ব্যস্ত। লেকের কোথাও তারা জুটিবদ্ধ ভাবে নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। কখনো তারা চক্রাকারে উড়ে বেড়াচ্ছে ক্যাম্পাসের মুক্ত আকাশ জুড়ে। এসব অথিতি পাখির কলকাকলি আর কিচিরমিচির শব্দে ক্যাম্পাসে মধুময় সুরের আবহ বিরাজ করছে। এখন ক্যাম্পাসবাসীর ঘুম ভাঙে অথিতি পাখির কলকাকলিতে। আবার সারাদিন কর্মব্যস্ততা শেষে অথিতি পাখির মধুময় সুরে ঘুমিয়ে পড়েন তারা।
এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট বড় ১৬/১৭টি লেক থাকলেও মাত্র দুইটি লেককে পাখিদের জন্য অভয়ারন্য হিসাবে ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। এবার বানিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষ ও পুকুর সংস্করন না করায় এবং সঠিক সময় লাল শাপলা প্রতিস্থাপন করায় পাখিদের বিচরন দেখা যাচ্ছে। লাল সীরামিকের সুদৃশ্য অট্টালিকা আর সবুজাভ প্রকৃতির টানে বছর জুড়ে ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের সমাগম থাকলেও বর্তমানে তাদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে দর্শানার্থীদের ভিড় জমে অতিথি পাখির কিচির মিচির শব্দ শোনার জন্য।
প্রতিবছর উত্তরের শীত প্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। মুলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে। আবার মার্চের শেষদিকে তারা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পর্যাবেক্ষন কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর ২৪৪ প্রজাতির অতিথি পাখির মধ্যে ক্যাম্পাসে সাধারনত ১২/১৩ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। এদের বেশির ভাগই হাঁস জাতীয় ও পানিতে বসবাস করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পাখি আসে তার মধ্যে বেশির ভাগই হাঁস জাতীয়। এর মধ্যে সরালি, খঞ্জনা, পাতারিহাঁস, পাতিতারা, নোনাজোৎসা, গয়ার, ধুপানি, লালমুড়ি, বামুনিয়া হাঁস, সি›ধু ঈগল, বাড়িঘোরা, হুড হুড ইত্যাদি প্রধান।
এসব পাখি অতিশীত প্রবণ উত্তর মেরু থেকে নিজেদের বাঁচাতে দক্ষিণের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে আসে। এরা ডানায় ভর করে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এ অঞ্চলে আসে। আর এ অতিথি পাখিদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লেকগুলো পরিষ্কার করা হয়। ইতোমধ্যে পাখিদের নিরাপত্তার জন্য লেকগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিথি পাখিদের আগমন উপলক্ষে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘পাখি মেলা’।









